ব্যবসা-বাণিজ্যসংবাদ

আবারও চিনির দাম বাড়াতে চায় ব্যবসায়ীরা!

চিনির দাম এমনিতেই বাড়তি। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে বাজার বিশ্লেষণ করে চিনির দামে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও বাজারে বিক্রি হয়েছে তার চেয়েও অন্তত ৬ টাকা বেশি দামে। আশ্চর্যের খবর, বাজার সমন্বয়হীনতার এই নৈরাজ্যের সময়ে চিনির দাম আরও বাড়াতে কমিশনে প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ট্যারিফ কমিশনের উপ পরিচালক মাহমুদুল হাসান এ খবর নিশ্চিত করেন।

তবে চিনির দাম কেন বাড়বে, কোন খাতের ভর্তুকি হিসেবে এসব বিষয়ে চিনি ব্যবসায়ী সমিতির কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।উল্লেখ্য গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রতি কেজি খোলা চিনি সর্বোচ্চ ৮৪ টাকায় এবং প্যাকেটজাত চিনি ৮৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; যদিও বাজারে এই দামের কোনটাই মানা হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের বেঁধে দেয়া সেই দাম কার্যকর হয়েছে কি না, তা চলমান পূজার ছুটি শেষে পর্যালোচনা করা হবে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) বিভাগের প্রধান এ কে এম আলী আহাদ খান।

তিনি গনমাধ্যমে বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সেটা সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করেই করা হয়েছে। সুতরাং নতুন করে দাম বৃদ্ধির আগে আগের আদেশ পালন করতে হবে। পূজার ছুটির পর আমরা এই বিষয়ে তৎপর হব।”

ব্যবসায়ীদের নতুন প্রস্তাব প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, “সেটা ট্যারিফ কমিশন খতিয়ে দেখবে। প্রস্তাব আসলে তো সেটা বিশ্লেষণ করতেই হবে।”

আরও পড়ুন : বিদ্যুতের দাম বাড়ছে আরও ১৫-২০ শতাংশ!

এদিকে ট্যারিফ কমিশনের কর্তকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, “প্রতি মাসে একবার মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব চিনি পরিশোধনকারীরা দিয়েই থাকে। সেই হিসাবে অক্টোবর মাসেও এমন একটি প্রস্তাব এসেছে। তবে এখনও এনিয়ে কোনো বিচার-বিশ্লেষণ হয়নি”।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্যারিফ কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “গত সেপ্টেম্বরে চিনির যে দাম ঠিক করে দেওয়া হয়, সেটা হচ্ছে ডলারের দর বাংলাদেশে ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া ৯৫ টাকা হিসাবে। কিন্তু এর বাংলাদেশ ব্যাংকই ডলারের দাম উন্মুক্ত করেছে এবং দামও এখন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সেই হিসাবে বলা যায়, ডলারের মূল্য সমন্বয় করতে গিয়ে হয়ত রেটটা আরেকটু বাড়তে পারে।”

বাংলাদেশে চিনির চাহিদার অধিকাংশই আমদানি করে মেটাতে হয়। জানা যায়, দেশে বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ টন পরিশোধিত চিনির চাহিদা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় চিনিকলগুলো থেকে আসে সর্বোচ্চ এক লাখ টনের মতো চিনি। বাকিটা পূরণ হয় আমদানি থেকে।

এদিকে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রহমানকে কল করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।