ব্যবসা-বাণিজ্যসংবাদ

এখনও ২৫ কোটি টাকার পণ্য আছে ইভ্যালির : শামীমা

দেশের আলোচিত এক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নাম ই-ভ্যালী। আচমকা তুমুল জনপ্রিয়তা পাবার পর আবার হুট করেই পতন হয়েছে গ্রাহক ঠকানো ও নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে। তবে সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়া শামীমা নাসরিন। ইভ্যালির গুদামে এখনও ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে গ্রাহকদের অর্ডার করা পণ্য দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তার আগে প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই স্বার্থেই স্বামী মোহাম্মদ রাসেলেরও মুক্তি চাইছেন শামীমা। রাসেল এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নিয়ন্ত্রণকর্তা ছিলেন। সেই সময়ে শামীমা ছিলেন চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে গ্রাহক ঠকানোর একের পর এক অভিযোগের মুখে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ঢুকতে হয়। গত এপ্রিল মাসে শামীমা জামিনে বের হলেও রাসেল এখনও কারাগারের চৌহদ্দিতেই আছেন।

তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইভ্যালির দায়-দেনার হিসাব এবং একে সচল করার উপায় বের করতে একটি পর্ষদ গঠন করেছিল হাই কোর্ট। সেই পর্ষদ দায়িত্ব শেষ করে বিদায় নেওয়ার পর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন শামীমা, যার ১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। ৮ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেন শামীমা।

তিনি সেখানে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আদালতের নির্দেশনা ও ইকমার্স নীতিমালা মেনে নতুন একটি সার্ভার চালু করে পুনরায় ব্যবসা শুরুর ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন : দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের!

গ্রাহকদের আতকে থাকা পন্য কবে পাবে- এই প্রশ্নের উত্তরে শামীমা বলেন, “আমাদের গোডাউনে প্রায় ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। এই পণ্য দিয়ে অতীতের সব দায় মেটানো প্রায় অসম্ভব৷

“তবে এইটুকু পণ্য দিয়ে যতটা সুষম বণ্টন সম্ভব, সেই পদ্ধতি অবলম্বন করে পণ্যগুলো সার্ভার অন করার সাথে সাথে ডেলিভারি করা হবে। এই বিষয়ে আমরা মহামান্য হাই কোর্ট এবং বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করব।”

গ্রাহকের পণ্য ও টাকা ফেরতের পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে শামীমা আরও বলেন, ইভ্যালির সার্ভারে লেনদেনের সব তথ্য রেকর্ড করা আছে। কিন্তু পাসওয়ার্ড হারিয়ে যাওয়ার কারণে রাসেল ছাড়া কারও পক্ষে সেটা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

“আমরা বিকল্প নানা উপায়ে চেষ্টা করেছি। পুরোনো সার্ভার পাওয়ার জন্য রাসেলকে প্রয়োজন। পাসওয়ার্ডের কথা বলা হচ্ছে সেটা মেমোরাইজ করা যাবে এমন না। সেটা রিকভারি করতে হলেও অনেকগুলো প্রসিডিউরের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। সেজন্য আমরা আদালত ও বোর্ডের সাথে আলোচনা করে যে কোনো শর্তে রাসেলের জামিনের আবেদন করব।”

উল্লেখ্য, ইভ্যালির সার্ভার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে নিবন্ধিত। আদালত গঠিত পর্ষদও তাতে ঢুকতে না পেরে ইভ্যালির দেনা-পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করতে পারেনি। বর্তমানে ইভ্যালির কাছে গ্রাহক-মার্চেন্টের পাওনা হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ইভ্যালি কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং যাওয়ার সময় তা অরক্ষিত অবস্থায় রেখে যাওয়ার সমালোচনা করেন শামীমা।

কবে থেকে হবে দেনা পরিশোধ?

এই প্রশ্নের উত্তরে শামীমা জানান, “আমাদের দেনা পরিশোধ করতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ৷ একটি যথাযথ পরিমাণে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ই-কমার্স মার্কেট সাইজ অনুযায়ী, ইভ্যালি মাল্টি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ তোলার সক্ষমতা রাখে৷ বর্তমানে ইভ্যালিতে বিনিয়োগ পেতে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিজনেস করে বিনিয়োগকারীদের এটাকে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উপস্থাপন করা।

“আমরা প্রথম দিন থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইভ্যালিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা মনে করি, আগামী ১ বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে ব্যবসা করতে পারলে প্রথম বিনিয়োগ থেকেই সব দেনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে।”

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।