দেশ-বিদেশের বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার

সারাবিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকে। ঈদ মানেই খুশি, আনন্দ, প্রিয় মুহূর্তগুলোয় পরিবার, আত্মীয় ও প্রিয়জনদের নিয়ে সময় কাটানো। মুসলমানদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব নিজ দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়। ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো রকমারি ও বাহারি খাবার যা খুশিকে দ্বিগুণ করে তোলে। নানা ধরনের সুস্বাদু ও ঐতিহ্যবাহী খাবার ঈদুল আজহার দিন তৈরি করা হয়। দেশে-বিদেশে তৈরি করা হয় ভিন্ন স্বাদের ভিন্ন ধরনের খাবার। এক এক দেশের খাবারের স্বাদ আবার এক এক রকমের হয়ে থাকে। নিজেদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ধর্মীয় রীতি মেনে এই খাবারের ভিন্নতা। ভিন্ন দেশের ভিন্ন ঐতিহ্যের খাবারের মাধ্যমে যোগ হয় ভিন্নতা ও সেই দেশের মানুষের আনন্দ। যেমন কোনো দেশে সেমাই দিয়ে ঈদের সকালের শুরু আবার কোনো দেশে সুস্বাদু মিষ্টান্নের সমাহার। উৎসব এক হলেও ভিন্ন দেশের ভিন্ন খাবার ও খাবারের ঐতিহ্য সম্পর্কে আসুন তবে জেনে নেই।

দেশ-বিদেশের বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার

নিচে বিভিন্ন দেশের সুস্বাদু, বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার:

দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশগুলোতে সাধারণত মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে ঈদের সকাল শুরু হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের ঈদের দিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো সেমাই। ঈদের সেমাই ছাড়া ঈদের দিন সকালের কথা কল্পনা করা যায় না। ঈদের দিন সকালে ঘিয়ে ভাজা বা দুধে ভেজানো সেমাই দিয়ে সকাল শুরু করা হয় এসব স্থানে। বাংলাদেশে দুধ, ঘি, চিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা দিয়ে রান্না করে কাজু বাদাম ,পেস্তা বাদাম দিয়ে পরিবেশন করা হয় সুস্বাদু সেমাই। অনেকেই আবার ঘন দুধ ও নারকেলের ঝুরি দিয়ে তৈরি করে থাকেন সেমাই। তবে ভিন্ন দেশে সেমাই রান্না করা হয়ে থাকে ভিন্ন স্বাদে। বাংলাদেশে ঈদে সেমাই রান্নার পাশাপাশি পায়েস রান্নার প্রচলন আছে। দুধ, চিনি, এলাচ,লবঙ্গ, বাদাম, কিশমিশ, তেজপাতা, চাল দিয়ে রান্না করা হয় সুস্বাদু ও ঐতিহ্যবাহী পায়েস। এছাড়াও পোলাও-কোরমা, কাচ্চি বিরিয়ানী, মোরগ পোলাও প্রভৃতি রান্না করা হয়ে থাকে। আবার গ্রামে হাঁস ভুনা, কবুতর ভুনা, খাসির কালা ভুনা, খুদের ভাত, নানান রকম ভর্তা, হালুয়া, চালের রুটি, ছিটরুটি, চিতই পিঠা, তালের বড়া, খেজুর গুড়ের পায়েসসহ নানান ধরনের সুস্বাদু দেশী খাবারের আয়োজন করা হয় ঈদে।

পাকিস্তানে এক বিশেষ ধরনের বিশেষ সেমাই তৈরি করা হয় যায় নাম ‘শির খুরমা’। এটি তাদের দেশে ঈদে খুবই জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। তবে সেমাইয়ের এই বিশেষ পদের খাবারের প্রচলন ভারতেও আছে। দুধে ভেজানো ড্রাই ফ্রুট ও খেজুর দিয়ে সেমাইয়ের মতো শের খুরমা রান্না করা হয়। ভারতে প্রস্তুত করা হয় নানা ধরনের রকমারি মিষ্টান্ন। ঈদের নামাজ আদায়ের পর সবাই একসাথে বসে এই মিষ্টান্নের স্বাদ উপভোগ করেন। তাছাড়া ঈদের দিন দক্ষিণ এশিয়ার  বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন- জর্দা সেমাই, কুনাফা, ক্ষীর, ফিরনি প্রভৃতি খাবারের প্রচলন রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ঈদে মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রচলন বেশি। তবে এখানে ঝাল জাতীয় সুস্বাদু ও মজাদার খাবারেরও প্রচলন আছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আরও এক খাবার বিরিয়ানি। বিরিয়ানি ছাড়া এ অঞ্চলে ঈদ কল্পনা করা যায় না।  দেশভেদে বিরিয়ানির রন্ধন প্রণালী আর মশলার ভিন্নতা থাকলেও গুণে, মানে ,স্বাদে আর ঐতিহ্যের আহ্বানে চাল ও মাংসের সমন্বয়ে তৈরি করা এই খাবারের জুড়ি মেলা ভার। যেমন- ভারতের হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানী, ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানী। মজাদার এই সুস্বাদু বিরিয়ানির চল আরও আগে থেকেই আছে এই উপমহাদেশে। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আরও একটি চমৎকার খাবার হলো নিহারী। মাংসের পায়া বা হাড়ের ঘন ঝোল করে রান্না করা হয় সুস্বাদু এই খাবারটি। পরটা বা রুটির সাথে খেতে অসাধারণ। এতে অনেক ক্ষেত্রেই সবজি বা ধনেপাতা দেয়া হয়। তবে মূল স্বাদ আনতে খুব ধীরে ধীরে রান্না করা হয়।

দেশ-বিদেশে বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার!
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার কাচ্চি বিরিয়ানী

ইরাকের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

আবার ইরাকে ঈদে গোলাপজল ও খেজুর মিশ্রিত এক ধরনের পেস্ট্রি খাওয়া হয় যার নাম ক্লাইচা। এখানে ভেড়ার মাংসের প্রচলন আছে। এছাড়া ইরাকে মহিষের দুধের সর, রুটি ও মধু দিয়ে ঈদের দিনের আহার শুরু হয়।

ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

ঈদের দিনে ব্রিটেনের মুসলিমদের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মতোই অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার বিরিয়ানি প্রচলন আছে। ব্রিটেনের জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশই দক্ষিণ এশিয়ার বংশোদ্ভূত বিধায় বিরিয়ানির জনপ্রিয়তা এখানেও রয়েছে। চাল, মাংস এবং সবজির সমন্বয়ে তৈরি করা হয় এই মুখরোচক খাবার। তবে ব্রিটেনের মুসলিম অধিবাসী এর সাথে রাখে দই এবং পুদিনার চাটনি।

মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

আফ্রিকার পশ্চিম সীমান্তের দেশগুলোতে মহা সমারোহে ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হয়। এখানে মরক্কোতে ঈদের একটি বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয় যার নাম হলো ‘তাজিন’। নির্ধারিত যে পাত্রে রান্না হয় মূলত সেই নামেই তাজিন এর নামকরণ করা হয়। মরক্কোর এই বিশেষ এই খাবারটি শুধু মরক্কোতেই নয়, উত্তর আফ্রিকাসহ পুরো আফ্রিকাতেই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও লিবিয়াসহ আশপাশের সব দেশেই আছে এই খাবারের  প্রচলন আছে। ঈদুল আযহায় তাজিনকে উত্তর আফ্রিকার একটি জনপ্রিয় ও বিশেষ খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন প্রকার সবজির সঙ্গে মাছ, মাংস হালকা আগুনে সেদ্ধ করে ভাপে দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি করা হয় ঈদের সুস্বাদু খাবার তাজিন। আবার মরক্কোয় বিভিন্ন উৎসবেও এটি প্রস্তুত করা হয়ে থাকে ।

আবার দীর্ঘদিন ধরে ঈদের দিন সকালে মরক্কোর মুসলিম পরিবারগুলোতে হার্বেল নাম ঐতিহ্যবাহী খাবারের পরিবেশন করা হয়। পায়েসের মতো দেখতে এই খাবারটিতে গম, দুধ, বাটার সব উপকরণই থাকে। খুব ঘন না হওয়া পর্যন্ত এটির রান্না চলতেই থাকে। সাধারণত মরক্কোর নারীরা ঈদের নামাজের পূর্বেই এই খাবার তৈরি ও পরিবেশন করেন।

তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

তুরস্কে ঈদে উপহার দেবার রীতি রয়েছে। বাড়ির শিশুরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বেড়াতে গেলে তাদের ছোট ছোট অনেক উপহার দেবার রীতি আছে। ঈদে বাড়িতে অতিথি এলে তাদের প্রথমে লোকুম খেতে দেওয়া হয়। হরেক রঙের সুস্বাদু মিষ্টির টুকরো এই লোকুম। বরফি আকৃতির বিশেষ এই মিষ্টি পেস্তা, গোলাপজল, চিনি ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয় যা তুরস্কের সব ঘরেই ঈদের দিন তৈরি করা হয়। সেখানখান শিশুদের খুবই প্রিয় খাবার হলো লোকুম। এর পরের ধাপে পরিবারের সবাই একত্র হয়ে বড় খানাদানার আয়োজন করে থাকে। নানা স্বাদের রকমারি খাবার পরিবেশন করা হয়।

ঈদুল আজহায় তুরস্কে এক ধরনের বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। একে বলা হয় কুরবান বিরিয়ানি। যেটি আসলে ওরুক নামে পরিচিত। আমাদের দেশের মতই তুরস্কেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে কোরবানির ঈদ পালন করা হয় আর এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলে ওরুক। একে এক প্রকার কোফতাও বলা যায়। সুজি ও আটার খামিরের মধ্যে মাংসের কিমা, কাঠবাদাম গুড়া, পেয়াজ কুচি, ধনে পাতা, গোলমরিচ, লাল মরিচ, লবণ ইত্যাদি মশলা মিশ্রিত করে এই খাবারটি তৈরি করা হয়ে থাকে। তুর্কি ঈদের অনুষঙ্গ হিসেবে বেশ লোভনীয় ও সুস্বাদু এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। 

দেশ-বিদেশে বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার!
তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার ওরুক

লেবাননের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

লেবাননে ঈদ উদযাপন সকাল শুরু হয় খেজুর, বাটার, বাদাম, আখরোটের পুর সমৃদ্ধ মামুল কুকির মাধ্যমে। ছোট ছোট এই মামুল ছাড়া ঈদ অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। লেবাননের প্রায় প্রতিটি ঘরেই ঈদে মামুল তৈরী ও পরিবেশন করা হয়। এটি সিরিয়াবাসীদেরও খুবই প্রিয় খাবার। এছাড়া ঈদে ফিলিস্তিনিতে আমন্ড ও পাইন নাটের তৈরি গ্রেইবে নামের বাটার কুকি তৈরি করা হয়।

সোমালিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

ঈদে সোমালিয়ানদের প্রিয় খাবার হলো পাতলা রুটি বিশেষ বা প্যানকেক যার নাম কামবাবুর। আবার  ইথিওপিয়ায় এই খাবারটির নাম হলো ইনজেরা। এটি খুবই সুস্বাদু ও জনপ্রিয় একটি খাবার। ঐতিহ্যবাহী এই খাবারটি মাংস বা সবজির সাথে গরম গরম খাওয়া হয় এছাড়া প্যানকেক দই বা চিনির সাথে আলাদা করেও খাওয়া যায়।

রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাশিয়া যার ১৫ শতাংশ অধিবাসীই মুসলিম। ঈদে রাশিয়ার মিষ্টি খাবারের প্রচলন কম তার পরিবর্তে ঝাল বা মাংস জাতীয় খাবার রাশিয়ার ঐতিহ্য। ঈদের দিনে রাশিয়ার মুসলিমদের কাছে মানতি সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। মোমো বা ডাম্পলিং বা পুলি পিঠার মতো দেখতে মাংসের পুর দিয়ে তৈরি করা এই বিশেষ ধরনের খাবার ভীষণ সুস্বাদু। মাখানো আটার পুটুলির মাঝে থাকে মাংসের কিমার পুর। এরপর তা ভাপে সেদ্ধ করে মানতি তৈরী করতে হয়। মাখন আর ক্রিমের সাথে এটি পরিবেশন করা হয়। এলাকাভেদে এই খাবারের স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আছে।

চীনের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

২ কোটি ৩০ লাখের মতো মুসলিম চীনে বসবাস করে। বেশির ভাগ মুসলিমের কাছে জনপ্রিয় শানজি। পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে চীনের ঐতিহ্যবাহী এই খাবার শানজি তৈরি করা হয়। চীনের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই খাবারটি খুবই জনপ্রিয়। ময়দার লেই তৈরি করে মোটা নুডুলসের মতো বানিয়ে ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী এই খাবার। এরপর বিশাল থালায় বিশেষ খাবারটি পিরামিডের মতো সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। 

ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস ইন্দোনেশিয়ায়। তাই, যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই এখানে ঈদ উদযাপন করা হয়। বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি জাতীয় খাবার ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উদযাপনের প্রধান ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম হলো কেটুপাত। চালের আটার পিঠার মতো দেখতে একটি বিশেষ পিঠা। পাম গাছের পাতায় মোড়া থাকে এটি, আর খেতেও বেশ সুস্বাদু ও জনপ্রিয় খবার এটি। মুখরোচক দারূণ স্বাদের এই খাবারটি মাংসের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে খাবার টেবিলে পরিবেশন করা হয়। 

ঔপনিবেশিক ডাচদের ধারণা থেকে প্রাপ্ত ল্যাপিস লেজিট। ঈদের ঐতিহ্যবাহী এই বিশেষ খাবারটি  হলো এক ধরনের মসলাদার লেয়ার কেক বিশেষ, সকলের এই পছন্দের খাবারটি তৈরি হয় হাজার হাজার স্তর যুক্ত মশলা দিয়ে। আবার নেদারল্যান্ডসে ঈদ ফুড মেন্যুর অন্যতম আকর্ষণ এই ল্যাপিস লেজিট। 

মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার:

মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশেই বিশেষ মাখন কুকি খুবই জনপ্রিয়। মোটা বিস্কুটের মাঝে খেজুরের পেস্ট, আখরোট বা পেস্তা বাদামের পুর ও ওপর দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয় হালকা চিনির গুঁড়ো আর এভাবেই প্রস্তুত করা হয় জনপ্রিয় এই খাবার।

এছাড়া  ঈদে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মাংস জাতীয় খাবার বেশ জনপ্রিয়। কারণ কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া কোরবানির প্রচলন আছে। মাংস দিয়ে তৈরি ‘ল্যাম্ব রোস্ট’ তেমনি ভীষণ জনপ্রিয় একটি খাবার। এই রোস্টের কদর খুবই বেশি দেশগুলোতে। মরিচ, মশলা, পনির এবং ধনে পাতার প্রলেপ দেয়ার পর দীর্ঘসময় ধরে ধীরে ধীরে রোস্ট করা হয়ে থাকে তারপর তা পরিবেশন করা হয়। 

দেশ-বিদেশে বাহারি ও ঐতিহ্যবাহী ঈদুল আজহার খাবার!
মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার ল্যাম্ব রোস্ট

লিবিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

লিবিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো আসিদা যা মূলত জেলি জাতীয় ডেজার্ট বিশেষ। লিবিয়ায় ঈদে সুস্বাদু জেলি জাতীয় ডেজার্ট এই আসিদা পরিবেশন করা হয়। লিবিয়ানরা আসিদা তৈরি করেন গমের ময়দা এবং মধু ব্যবহার করে। ঈদে আবশ্যকীয় এই ডেজার্ট তারা খাবারের পাতে রাখেন।

বসনিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

তুফাহিজা হলো বসনিয়ার ঐতিহ্যবাহী এক খাবার। বসনিয়ানরা এই বিশেষ রেসিপিটি ঈদসহ বিশেষ বিশেষ দিনে তৈরি করে থাকেন। এই বিশেষ পদের খাবারটি আপেল সেদ্ধ করে তৈরি করা হয়। সেদ্ধ আপেলের মধ্যে আখরোট বাদামে ভরাট করা হয় এবং হুইপড ক্রিম দিয়ে উপরে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়।

বার্মার ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

শাই মাই ঈদ হলো বার্মার মানুষদের ঈদের দিন ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার। সেমাই রান্না করা হয় এটি  তবে তা ভিন্ন উপায়ে ভিন্ন ভাবে। শাই মাই ঈদ পরিবেশন করা হয় নারকেল, কিসমিস এবং কাজু বাদাম ভাজা দিয়ে। 

আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী ঈদের খাবার:

আফগানিস্তানে ঈদের দিন সকালে বোলানি হলো  বিশেষভাবে রান্না করা খাবার। এই মুখরোচক খাবারটি পাতলা রুটির ভেতরে সবজি, আলু, ডাল বা কুমড়ার পুর দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় আর টক দইয়ের সাথে পরিবেশন করা হয়। আফগানিস্তানের মুসলিমদের কাছে সবসময়ের ভীষণ পছন্দের এই খাবারটি।

#আরও পড়ুন:

পরিশেষে বলা যায়, খাবার একটি দেশ ও জাতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে। দেশ, অঞ্চল, জাতি-গোষ্ঠীর ভিন্নতার কারণে খাবারের স্বাদ ও মান ভিন্ন হয়। আবার ধর্মীয় কারণেও খাবারের বিধিনিষেধ ও রীতিনীতির পার্থক্য থাকে। বিভিন্ন দেশে পালিত ঈদে হরেক রকমের রকমারি ও বাহারি খাবার তৈরি করা হয়, যা সে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Adblock Detected

Dear Viewer, Please Turn Off Your Ad Blocker To Continue Visiting Our Site & Enjoy Our Contents.