বিশ্ববাণিজ্যব্যবসা-বাণিজ্য

গত ৭ মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেল এখন সর্বনিম্ন দামে

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমলো। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের তুলনায় আজ (৭ সেপ্টেম্বর) তেলের দাম ১ মার্কিন ডলারেরও বেশি কমেছে। এতে করে গত ৭ মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে এখন তেলের দাম সর্বনিম্নে রয়েছে।

এই মুহুর্তে বিশ্বে শীর্ষ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীনে করোনা নিষেধাজ্ঞা এবং সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং জ্বালানির কম চাহিদার উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকালে বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.০৮ মার্কিন ডলার কমে যায়। আগের সেশনের তুলনায় শতাংশের হিসেবে যা এক দশমিক ২ শতাংশ কম। এতে করে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম নেমেছে ৯১.৭৫ ডলারে। যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আরও পড়ুন: ১৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতিতে বাংলাদেশ!

এদিকে প্রথম সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ১.২০ ডলার কমে ৮৫.৬৮ মার্কিন ডলারে নেমেছে।

গত সোমবার অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) এবং ওপেক প্লাস নামে পরিচিত তাদের মিত্ররা আগামী অক্টোবর থেকে প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেবার পরেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

ফরেন এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ওএএনডিএ’র সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মোয়া জানান, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ওপেক প্লাসের উৎপাদন কমানোর বিষয়টিকে ম্লান করা কঠিন ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত কিছু ডেটা পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মোটেই ভালো দেখাচ্ছে না এবং এটিই অপরিশোধিত তেলের দামের জন্য সমস্যা।’

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠান সিএমসি মার্কেটের বিশ্লেষক টিনা টেং বলছেন, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, (সুদের) হারের আক্রমনাত্মক বৃদ্ধি, বন্ড বেড়ে যাওয়া এবং চীনের প্রবৃদ্ধিতে মন্দা তেলের দামকে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দাবি, কঠোর করোনা নীতিমালার কারণে ২১.২ মিলিয়ন বাসিন্দাসহ চেংডুর মতো শহরগুলোতে লকডাউন জারি রেখেছে চীন। এতে মূলত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তাদের মধ্যে গতিশীলতা এবং তেলের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।

গত আগস্ট মাস থেকে এশিয়ার পরাশক্তি এই দেশটির রপ্তানি ও আমদানি গতি হারিয়েছে এবং প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত। এক বছর আগের তুলনায় গত আগস্ট মাসে চীনে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে প্রায় ৯.৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন: টেক্সটাইল পণ্যের আড়ালে বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট!

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।