ডলারের বিপরীতে চীনা মুদ্রার রেকর্ড পতন!

বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক লেনদেনকৃত ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার উঠানামা চলছে বেশ কিছুসময় ধরেই। এ মাসের শুরুতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আবারও সুদের হার বাড়ানোর প্রভাবে ডলারে বিপরীতে অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর পতন অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের হয়েছে রেকর্ড পতন। মার্কিন মুদ্রার ক্রমশ ঊর্ধ্বগতিতে তলানিতে ঠেকেছে ইউয়ানের মান।
উল্লেখ্য, চীনা মুদ্রার মান বিষয়ক তথ্যাদি প্রকাশ করা হয় ২০১১ সালে থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউয়ানের মান এর আগে কখনো এত নিচে নামেনি। এমনকি চীনের অভ্যন্তরীণ মুদ্রার মানও ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ লিমিটেড এবং তিয়ানফেং সিকিউরিটিজ কোম্পানি এবং বিশ্লেষকরা মনে করছে, পিপলস ব্যাংক অব চায়না সম্ভবত বড় উদ্দীপনামূলক পদক্ষেপ বিলম্বিত করে দেবে। যেমন, সুদের হার এবং ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ প্রয়োজনীয়তার অনুপাত কমিয়ে দেবে।
আরও পড়ুন: ২০২৩ সালে সারাবিশ্বে দেখা দিতে পারে খাদ্যসংকট!
কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব এবং সম্পত্তি বিষয়ক সংকটে চীনের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই বিপর্যস্ত। এর থেকে উত্তরণের জন্য চীনা সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন পদক্ষেপ নিলে সরকারের এ প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে পড়বে।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চীনের বাইরে প্রতি ডলারের বিপরীতে অফশোর ইউয়ানের মান কমে ৭ দশমিক ২৪। ২০১০ সালের পর থেকে যা সর্বনিম্ন। এছাড়া অনশোর বা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান কমেছে ৭ দশমিক ২৩।
পাশাপাশি ভারতের ফরেক্স মার্কেটে ডলারের বিপরীতে রুপির দর শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ৮১ দশমিক ৬২ এ এসে নামে। এদিন মার্কিন মুদ্রার বিপরীতে রুপির মানও সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমে আসে।
অন্যদিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডেরও রেকর্ড পতন হয়েছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনে মুদ্রাটির মান নেমে আসে ১ দশমিক শূন্য ৩ এর কাছাকাছি। সোমবার সকালে ( যুক্তরাজ্য সময় ) তা প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৬ ডলারে এসে অবস্থান করে।
এদিকে দ্য ইউএস ডলার ইনডেক্স জানিয়েছে, গত ২০ বছরের মধ্যে বর্তমানের ডলারের মান সবচেয়ে বেশি।