আন্তর্জাতিকসন্দেশ

ফিলিস্তিনের পক্ষ নিলেন জো বাইডেন!

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতি আবারও সমর্থন জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আছে। তবে তিনি নতুন কোনো শান্তি উদ্যোগের ইঙ্গিত দেননি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাইডেন তার ভাষণে বলেন, ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ইসরাইলের ভবিষ্যত নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এবং ফিলিস্তিন নাগরিকদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে এটি একটি উত্তম পন্থা। আর এটি ‘স্বাধীনতা ও সম্মানের’ একটি ভারসাম্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

গত জুলাইয়ে ইসরাইল ও পশ্চিমতীর সফর করার সময়ও বাইডেন এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিন। তবে ২০১৪ সাল থেকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে।

বাইডেন কট্টর ইসরাইলপন্থি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনের কিছু নাগরিক মার্কিন প্রশাসনকে অতি সাবধানতার চোখে দেখছে। তারা এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক কর্মসূচির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন# আবার বাবা হচ্ছেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ!

ইসরাইল যে ভূখণ্ডে রয়েছে, সেটি ৪০০ বছর (১৫১৭ থেকে ১৯১৭) অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। অর্থাৎ মুসলিমদের অধীন ছিল। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর এটি ব্রিটিশদের দখলে চলে যায়। এর নাম রাখা হয় মেন্ডেটরি প্যালেস্টাইন। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। সপ্তম শতাব্দী থেকেই ইহুদিদের নিজস্ব ভূখণ্ড ছিল না। তারা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছিল। একপর্যায়ে তারা ইউরোপে পাড়ি জমায়। এরপর ইহুদিরা ফিলিস্তিনে এসে গেড়ে বসে।

১৯২৩ সালে স্বাধীন তুরস্ক রাষ্ট্রটির জন্ম হলে এ অঞ্চলে ইহুদিরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব হন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইহুদিদের ইসরাইলে বসতি গড়ার আহ্বান জানানো হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রায় আড়াই লাখ ইহুদি ইসরাইলে পাড়ি জমা্য।

১৯২১ সালে ইহুদিরা ‘হাগানাহ’ নামের একটি বাহিনী তৈরি করে। এ বাহিনী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদীদের সহায়তা করতে থাকে। আধা সামারিক এ বাহিনী জোরপূর্বক ফিলিস্তিন ভূমি দখলের পর ইসরাইলের মূল সামরিক বাহিনী গঠন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ইউরোপ থেকে আরও ইহুদি ইসরাইলে আসেন। তাদের অনেককেই হাগানাহসহ অন্যান্য বাহিনীতে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়।

১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করার বিষয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব পাস করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ ভূমি ফিলিস্তিনিদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ইহুদিবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। সে সময় ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেভিড বেনগুরিয়ান। তাকে ইহুদি ‘রাষ্ট্রের জনক’ বলা হয়। এর দুদিন পর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ইসরাইলকে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।