ইতিহাসঐতিহ্যফিচারবিখ্যাত জায়গাভ্রমণ

বগালেক এর একাল-সেকাল

পাহাড়ের চূড়ায় বগালেক এর সৌন্দর্যতত্ত্ব দেখে গিয়েছিলাম বছর চারেক আগেই। সেদিকটায় আবার পা মাড়ানোর ইচ্ছে ছিল বটে। কারণ চার বছর আগের সেই ভ্রমণে বগালেক হয়ে চিংড়িছড়া পর্যন্ত যেতে পারলেও কেওক্রাডং যাওয়া হয়নি বিশেষ সমস্যার কারণে। তাই আরও একবার বগালেক এর দিকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু রোয়াংছড়ি থেকে ফিরে পুনরায় বগালেক অভিমুখে গমন করার উদ্দেশ্য মোটেও কেওক্রাডং জয় করা নয়। বরং আরেকবার বগা লেকের পানিতে গোসল করে সিয়াম দিদির ক্যান্টিনে দুই বেলা ভাত খাওয়াই আমাদের অভিলাষ।

বগালেক অভিমুখে যাত্রা

সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যেতেই, তৎক্ষনাৎ ফোন করে গাইড আর চাঁদের গাড়ি ঠিক করা হলো। মুড়ির টিন মার্কা বাসে চড়ে আমরা ছুটলাম রুমায়। পাক্কা তিন ঘণ্টা ধরে ধুলো আর রোদে জর্জরিত হয়ে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে রুমা বাজার পৌঁছালাম।

যথারীতি গাইড এসে রুমা বাজারের আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে গেল আমাদের। নাম এন্ট্রি করে আমরা চলে এলাম তিনমাথায়, যেখানে আমাদের ল্যান্ডক্রুজার থাকার কথা।

#আরও পড়ুন: এগারো শিব মন্দির : রাজা নীলকণ্ঠ রায়ের স্মৃতি বিজড়িত মন্দির!

এর আগেও এই পথে চান্দের গাড়ি চড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখন যেতে এগারো মাইল পর্যন্ত। তাও সেই রাস্তা ছিল ভাঙা। কোনো কোনো রাস্তা ছিলো কেবলমাত্র ইট বিছানো। এগারো মাইল গ্রাম পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে রীতিমতো তিন ঘন্টার উঁচুনিচু দুর্গম পথে ট্রেকিং করে তারপর পৌঁছেছি বগালেক। সেবার এই পথ জুড়ে কতো ঘটনা ঘটলো, পাহাড় বাইতে গিয়ে! অথচ এবারে নাকি পুরো পথ ল্যান্ড ক্রুজারেই যেতে পারব! বগা লেক পর্যন্ত পিচ ঢালা মসৃণ রাস্তা বানিয়ে ফেলেছে সেনাবাহিনী।

বগালেক যাওয়ার রাস্তা ……

আমাদের এবারের গাইড সম্পর্কে কিছু বলা যাক। ভাদাইম্মা বলতে যা বোঝায়, তাই হলো আমাদের এই গাইড। তাই এই ভাদাইম্মাপনার জন্যই এই ট্রিপে আমরা প্লাসপয়েন্ট হিসেবে কিছু জিনিস পেয়েছি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর ল্যান্ডক্রুজারে চলতে শুরু করল। বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা ভাবলাম, বগালেক গিয়ে আজকের মতো আমাদের কোনো কাজ নেই। আমরা যদি যাওয়ার পথে সুন্দর কোনো জায়গা দেখে নেমে কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়াই, মন্দ হয় না। গাইডকে বলতেই সেও লাফিয়ে উঠল।

রুমা বাজার থেকে বগালেক পর্যন্ত নতুন যে রাস্তা করা হয়েছে, সেই রাস্তার ধারে বেশ কয়েকটি ভিউ পয়েন্ট করা হয়েছে। বসুন্ধরা ভিউ পয়েন্ট, মুনলাং পাড়া পয়েন্ট, শৈরাতং পাড়া পয়েন্ট। আমরা দুইটায় নামলাম। মজার ব্যাপার হলো, ভিউ পয়েন্ট, কিন্তু গাছ গাছালির জন্য ভিউ দেখা যাচ্ছে না। তবুও আমরা হেঁটে হেঁটে দেখলাম কিছুক্ষণ। এতকাল শুধু পদার্থবিজ্ঞানের বইয়েই পড়েছি, পাহাড়ি রাস্তায় মোড়ে মোড়ে বড়ো আয়না লাগানো হয় গাড়ি চালানোর সুবিধার্থে। এবারে নিজেই দেখলাম।

বগালেক
এইসব আধুনিক যান্ত্রিকতা আগে ছিল না বগালেকে

আমাদের গাইড পাহাড়ের ঢালে গিয়ে আম পাড়তে শুরু করলো। এটা একটা পাহাড়ি আম। নাম, রাংখুয়াই। আমরা রুমা আসার পথেই বাজার থেকে কিনে খেয়েছিলাম। খুব সুস্বাদু এই আম সমতলে হয় কি না, দেখার জন্য রেখে দিলাম। তবে রাংখুয়াই আম সাধারণ পদ্ধতিতে হয় না। বীচি স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ফেলে রাখলে এক বীচি থেকে ৫-৭ টা চারা উঠবে। সবচেয়ে বড়ো চারাটা রেখে বাকিগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। তারপর ওই একটা চারা থেকেই গাছ হবে।

কিছুক্ষণ ঘুরেফিরে আবার ল্যান্ড ক্রুজারে চড়ে বসলাম। আগেরবার কমলা বাজার থেকে খাড়াই উঠতে গিয়ে আমাদের জান বের হয়ে যাচ্ছিল। এবার ল্যান্ড ক্রুজারে করে সেই খাড়াই পার হলাম। মনে হচ্ছিলো যেন ফ্যান্টাসি কিংডমের রোলার কোস্টার রাইডে আছি! পার্থক্য কেবল এই চড়াই আর উৎরাই পেরুনোর সময় গতিবেগটা রোলার কোস্টারের মতো ছিলো না।

#আরও পড়ুন: নাপিত্তাছড়া’র বহমান ধারায় অবগাহন!

আমরা সিয়ামদির ঘর ভাড়া নিলাম। আগেই বলা হয়েছিল তাকে, আমরা লেকের পাড়ের ঘর নেব। তিনি আমাদেরকে তার সবচেয়ে সুন্দর দুটো কটেজের চাবি দিলেন। কটেজগুলি বাঁশের বেতি দিয়ে মানানো। হ্রদের পানির উপরে মাচার মতো দাঁড়িয়ে আছে। কটেজভাড়া প্রতি জনে ১৫০ টাকা। আগেরবারেও লেকের ধারের কটেজে এসেই উঠেছিলাম। তবে তখন এত কটেজ ছিলই না। এখন সিয়ামদিরই ৯-১০ টা কটেজ।

আগেরবার এসে বগালেকের সৌন্দর্য দেখেছিলাম মুগ্ধ হয়ে। এবারে এসে খালি পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ছে। চার বছরে কতটা বদলে গেছে! আগে যেখানে আর্মি ক্যাম্প ছিল, সেখানে নেই এখন। আমরা সেবার যে পাহাড়টা দিয়ে ওঠে প্রথমবার বগালেক দর্শন করেছিলাম, সেটা খুঁজেই পাচ্ছিলাম না। প্রথমে ভাবলাম, রাস্তা করার সময় হয়তো সেই পাহাড়টা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরে দেখি, না। দীর্ঘদিনের অব্যবহারে সেই পথ ঘাস লতায় ঢেকে গেছে, তাই চিনতে পারছিলাম না।

সন্ধ্যা খোঁপায় গুঁজেছে হ্রদটি। অপূর্ব মোহময়তা ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম আকাশে। হ্রদে নেমে গোসল করা নিষেধ করে দিয়েছে আর্মি, যেহেতু দুজন ডুবে মারা গেছে। তাই আমরা আলো নিভে যাওয়ার পর পানিতে নামলাম। পশ্চিম আকাশের সোনালী-নীলাভ আভা গায়ে মেখে গোসল করলাম।

রাতে সিয়ামদির ঘরে খাবার খেতে গেলাম। বগালেক এলাকার অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলায়নি সিয়ামদির ক্যান্টিনের খাবার। জুম চালের ভাত, কাঁচামরিচ ভর্তা, জুমের কুমড়া ভাজি, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি, পুঁই শাক, ডাল দিয়ে জম্পেশ রাতের খাবার খাওয়া হলো। পাহাড়ি পরিবেশে মুক্ত হাওয়ায় দারুণ খিদে পায়। এই অতি সাধারণ খাবারই সবাই পেট ভরার পরেও আরেকটু বেশি খেল। চার বছর আগেও এই খাবারই ঠিক রাক্ষসের মতো খেয়েছিল সবাই। তখন ভেবেছিলাম, পাহাড় বাওয়ার পরিশ্রমের কারণে ওভাবে খেয়েছে সবাই। কিন্তু এবারে যেহেতু পুরো পথ গাড়িতে গিয়েছি, তাই পরিশ্রমের কোনো ব্যাপার নেই। তবুও আমরা রাতের খাবার এরকম হাপুস হুপুস করেই খেয়েছি। সিয়ামদির রান্নার হাতে কী যেন এক জাদু আছে, নইলে এত সুস্বাদের আর কী অর্থ থাকতে পারে? খাবার শেষ করার পর রুমা বাজার থেকে কিনে আনা জাম দিয়ে জাম ভর্তা বানিয়ে খেলাম।

রাতেই দিদি জানিয়ে দিলেন, সকালের জন্য আছে খিচুড়ি, ডিম ভাজা, আলু ভর্তা, মরিচ ভর্তা আর ডাল। সকালে খাব কি না, জানিয়ে দিতে হবে আগে থেকেই। একবাক্যেই বলে দিলাম, খাব। সত্যি বলতে, এখানে আসার আগে যখন আমরা ঠিক করতে পারছিলাম না কোথায় যাব, তখন ইভা বলছিলো, “চল, বগালেক গিয়ে সিয়ামদির হাতের রান্না খেয়ে আসি!”
যেহেতু সিয়ামদির রান্না খেতেই এবার বগালেক এলাম, সুতরাং প্রত্যেক বেলার খাবার তো এখানেই খাব!

আগেরবার যখন এসেছিলাম, তখন দেখেছি, এই বোমপাড়ায় রাত নামার কিছুক্ষণ পরেই নিস্তব্ধতা জেঁকে বসতো। রাতের বগালেক দিনের বগালেক থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। রাতে যেন ভিন্ন এক মায়াবী হাতছানি দিয়ে ডাকে হ্রদ আর ওপাশের পাহাড়।

বগালেক
সুন্দর ভোরের প্রত্যাশায় …।

সিয়ামদির ক্যান্টিনে দুয়েকজনের হালকা আলাপ, দুয়েকটা টুরিস্ট গ্রুপের খালি গলায় গাওয়া গান বাদে আর কেবল নিশির ডাকই শোনা যেত। নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে করতে অনেক রাত পর্যন্ত বারান্দায় শুয়ে আকাশ, পাহাড় আর হ্রদের সৌন্দর্য দেখতে ভালো লেগেছিল তখন। আর এখন রীতিমতো হৈ-হল্লা শোনা যায় রাত নামার পর। সিয়ামদির ক্যান্টিনটি এখন প্রায় বাজারের ভূমিকা পালন করছে। এত আলো, এত শব্দ, এত মানুষ! আমি রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠলাম।

ভোর সকালে ঘুম ভাঙল। ভোর দেখেই মনে হলো, আজ খুব রোদ উঠবে। কাউকে না জাগিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। চারবছর আগে এর ঠিক বিপরীত রকমের এক ভোরে এভাবে বেরিয়ে পড়েছিলাম আমি। চার বছরে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মোটেও কমেনি, তবে মানুষের অত্যাচারে কমতে কতক্ষণ?

হাতমুখ ধুয়ে নিলাম হ্রদের পানিতে। তারপর গিয়ে নতুন করে বানানো জিনিসগুলো দেখলাম। বমরাম গসপেল সেন্টেনারি নামে শতবর্ষী উৎসবের জন্য একটা মনুমেন্ট বানানো হয়েছে, দর্শনার্থীদের বসার জন্য কতগুলো ইট পাথরের আসন জায়গা নিয়েছে লেকের এক পাড় জুড়ে। এগুলো নাকি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হলেও, বগালেক এলাকাটিও যে আরেকটা বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিচ্ছে, তারই স্বরূপ এসব। আমরা আমাদের সাজেক নষ্ট করেছি, এখন বগালেকও সেই পথেই হাঁটছে।

বেশ কিছুক্ষণ বসে রইলাম পাড়ে। রোদ চড়তেই রুমে ফিরে গেলাম। বাকিরা তখনোও ঘুমাচ্ছে। আমাদের আজকে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই, বগালেকের আশেপাশেই ঘুরে বেড়াব। তাই আমি ঝুল বারান্দায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম আবার। ঘুম আসতেও দেরি হলো না।

অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমানো হলো, প্রায় নয়টা। কড়া রোদ উঠেছে। আরও দেরি করে গেলে আর খাবার পাওয়া যাবে না, তাই সবাইকে ডেকে খেতে গেলাম ক্যান্টিনে। আমরা ছাড়া আর কেউই নেই। সবাইই কেওক্রাডংয়ের দিকে রওনা করেছে। খেতে বসে রাতের কুমড়ো ভাজির জন্য খুব মন কাঁদলো। কুমড়োটা যে এত মজা হয়েছিল! তবে ডিমভাজা দিয়েও খাবারটা নেহায়েত মন্দ হয়নি। আমাদের মধ্যে কে যেন খিচুড়ির মধ্যেই একটুখানি ডাল নিয়ে বলল, ডাল দিয়েও খিচুড়ি ভালোই লাগছে। শুরু নাক সিঁটকালাম, খিচুড়ি কি ডাল দিয়ে খায়? খিচুড়িতে তো ডাল এমনিতেই আছে। পরে কী মনে হতে, এক চামচ তুলে নিলাম পাতে। বেশ লাগলো খেতে। খেতে বসেই গাইডের কাছে শুনলাম, একটা চান্দের গাড়ি দার্জিলিং পাড়ায় যাবে। আমরা চাইলে কিছুটা পথ সেই গাড়িতে যেতে পারি। যেহেতু হাতে করার মতো কোনো কাজই নেই, লাফিয়ে উঠলাম এই খবরে। খাওয়া শেষ করেই দিদিকে জানালাম, আমরা দুপুরে খেয়েই যাব।

বগালেক
পাহাড় চূড়া থেকে বগালেকের রূপ

চান্দের গাড়ি আমাদের খাড়াই পেরিয়ে টিলামতোন একটা জায়গায় নামিয়ে দিলো। বগালেক থেকে জায়গাটি খুব দূরে নয়, কিন্তু পায়ে হেঁটে উঠতে হলে এই খাড়াই বাইতে খানিকটা কষ্টই হতো। রাস্তার একধারে পাহাড়, অন্য পাশে খাদ। খাদ পেরিয়ে দৃষ্টি আরও একটু সামনে নিক্ষেপ করলেই দেখা যাচ্ছে বগা লেক। ঠিক যেন পাখির চোখে দেখছি ড্রাগন হ্রদটিকে। ঝকঝকে দিন হওয়ায় গাঢ় নীল আকাশ, পেজা তুলোর মতো মেঘ, শ্যাওলা সবুজ পাহাড় আর বগা লেকে আকাশের প্রতিফলন- সব মিলিয়ে অভূতপূর্ব একটা দৃশ্য দেখলাম। তার ওপরে একটা মেঘ হ্রদের ঠিক ওপরে ছিল, মেঘের ছায়াও খুব স্পষ্ট করে দেখলাম। আগেরবার ভরা বর্ষায় এসেছিলাম বলে কুয়াশার মতো মেঘ ছিল প্রচুর। তাছাড়া চিংড়িছড়ায় ওঠার সময় ঘন জঙ্গলের রাস্তা ধরে উঠেছিলাম, তখন এরকমভাবে দেখা যায়নি। বগালেক যাওয়ার পথে যে জায়গাগুলোকে ভিউ পয়েন্ট বানানো হয়েছে, সেগুলো না করে, এরকম জায়গায় ভিউ পয়েন্ট করা উচিত। এখানে কিছুক্ষণ থেকে হেঁটে হেঁটে বোম পাড়ায় ফিরলাম। তারপর আবার ডুবোডুবি করলাম হ্রদের জলে।

#আরও পড়ুন: পঞ্চগড় তেতুলিয়া ভ্রমণের আদ্যপান্ত!

দুপুরেও জুম চালের ভাত, মরিচ ভর্তা, জুমের কুমড়া ভাজি, আলু ভর্তা, ডিমের ঝোল, পুঁইশাক, পাহাড়ি কচু, ডালের সাথে সাথে অন্যরকম একটা জিনিস পরিবেশন করলো দিদি। কাঁচা আম, কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে অদ্ভুত ধরণের ভর্তা বানিয়ে নিয়েছে। টক টক ভর্তাটা খেতে দারুণ লেগেছিল। খাওয়া শেষ করার মাধ্যমেই আমাদের ড্রাগনহ্রদে ঘোরার পর্ব শেষ হলো।

বগালেক কীভাবে যাবেন

প্রথমে আপনাকে বান্দরবান শহরে যেতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির গাড়ি ছেড়ে যায়। যেমন শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন- এর যেকোনো একটি বাসে চড়ে আপনি বান্দরবানের যেতে পারেন। রাত ১০ টায় অথবা সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে এসব বাস বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নন এসি বাসে জন প্রতি ভাড়া ৫৫০ টাকা। এসি ৯৫০ টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান যেতে পারেন। বদ্দারহাট থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের বাস যায়। এসব বাসে জনপ্রতি ১১০টাকা ভাড়া রাখা হয়।

এবার আপনাকে বান্দরবান হতে চান্দেরগাড়িতে করে যেতে হবে রুমা। অবশ্যই বিকাল ৪ টার মধ্যে পৌঁছাতে হবে রুমায়, ৪ টার পরে সেনাবাহিনী আর নতুন কোনো চান্দের গাড়ি বগা লেক এর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার অনুমতি দেয় না।

বান্দরাবন থেকে রুমা উপজেলা সদরে যেতে বাসভাড়া লাগবে জন প্রতি ১১০ ৳। রুমা থেকে বগালেক পর্যন্ত ল্যান্ডক্রুজারের ভাড়া ২০০০ – ২২০০ ৳ পর্যন্ত।

রুমা বাজার পৌঁছে প্রথম কাজ হচ্ছে গাইড ঠিক করা। রুমা বাজার থেকে বগা লেক বা কেওক্রাডং বা আরও দূরে গেলেও দিনপ্রতি গাইড ভাড়া ৭০০ টাকা। তাছাড়া গাইড আপনার সঙ্গে থাকাকালীন তার যাবতীয় খরচ আপনাকেই বহন করতে হবে। বিভিন্ন পর্যটন অফিস সেনাবাহিনীর রেজিস্টার্ড গাইড সরবারহ করে। আপনি সেখান থেকে গাইড নিয়ে নেবেন। সাধারনত সিরিয়ালে যে গাইড থাকে তাকেই নিতে হয়। কিংবা পরিচিত গাইডকে কল করে জানিয়ে রাখলেও হয়। পাহাড়ি গাইড পেলে ভালো।

কোথায় থাকবেন

বগালেকে সিয়াম দিদি অথবা লারামের রেস্ট হাউজে উঠবেন। মনে রাখবেন যে রেস্ট হাউজে উঠবেন সেখানেই খাবেন। এত খরচ কম হবে।

সিয়াম দিদির ফোন নাম্বার – 01840721590।

এখানে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো সেখানে রাত্রিযাপন করার সুযোগ ঘটবে পযর্টকদের।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।