বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১০১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : মাউশির প্রতিবেদন

চলমান বন্যায় দেশের ১১০১ টি স্কুল ও কলেজ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। দেশের মোট ১৮ জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ এসব ক্ষয়ক্ষতির শিকার বলে প্রতিবেদনটিতে জানা গেছে।

এসব স্কুল/কলেজের অনেকগুলো এখনও পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পানি নেমে গেলেও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে ল্যাব, খেলার মাঠ, আসবাবপত্র সহ নানান গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ফাইলপত্র। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যাওয়া আসায় পোহাতে হচ্ছে ব্যাপক ভোগান্তি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটসমূহ মেরামত ছাড়া পাঠদানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গত ৩০ জুন বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে মাউশি এ তথ্য জানিয়েছে। 

#আরও পড়ুন: বুয়েটে চান্স পেল নিহত আবরার ফাহাদের ছোটো ভাই আবরার ফাইয়াজ!

মাউশির একটি সূত্র থেকে জানা যায়, বন্যায় মোট ১৮ টি জেলার ৯০ টি উপজেলার ১১০১ টি নিন্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বেশকিছু কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক) ক্ষতির শিকার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিলেটে। এ জেলার ১৩ টি উপজেলার মোট ৩০৬ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, হবিগঞ্জের ৬ উপজেলায় ৭৬টি প্রতিষ্ঠান, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ২৬৩টি, মৌলভীবাজারের পাঁচ উপজেলায় ৪৫টি, গাইবান্ধার চার উপজেলায় ১৮টি, কুড়িগ্রামের সাত উপজেলায় ১০০টি, লালমনিরহাটের দুই উপজেলায় তিনটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ উপজেলায় সাতটি, ময়মনসিংহের একটি উপজেলায় তিনটি, টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় ৩৮টি, জামালপুরের পাঁচ উপজেলায় ৪৫টি, কিশোরগঞ্জের ছয় উপজেলায় ৩৮টি, শেরপুরের তিন উপজেলায় তিনটি, নেত্রকোনায় ১০ উপজেলায় ১২৩টি, বগুড়ার দুই উপজেলায় আটটি, সিরাজগঞ্জের চার উপজেলায় ২২টি, নরসিংদীর এক উপজেলায় একটি ও মানিকগঞ্জের দুই উপজেলায় দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। 

মাউশির পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশান উইং) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, ”বন্যায় দেশের ১৮ জেলায় ১১০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা জানাতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবাই ছক আকারে সেসব তথ্য পাঠাচ্ছে।

#আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষায় বিশ্বব্যাংকের অনুদান পেল বাংলাদেশ

ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে ৮৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১০১টি আশিংক ব্যবহার করা যাবে। বাকি ১৩২টির পানি নেমে গেলে পাঠদান করানো সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৮ থেকে ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Adblock Detected

Dear Viewer, Please Turn Off Your Ad Blocker To Continue Visiting Our Site & Enjoy Our Contents.