লাইফস্টাইলস্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল

৭২ জন বসবাস করেন একসাথে, একই বাড়িতে! ভারতের মহারাষ্ট্রের এই পরিবারে থাকেন চার প্রজন্মের সদস্য।

একসাথে একই বাড়িতে বসবাস করেন চার-চারটি প্রজন্ম! একসাথে থাকতে হই ৭২ জনকে। ৭২ জন একসাথে থাকা কোনো চাট্টি খানি কথা না! গত ১৪ নভেম্বর বিবিসি বাংলার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এই পরিবারের সমেন্ধ জানা যায়। বিস্তারিত রইল প্রতিবেদনে...

অনুলিপি ডেস্কঃ বিশ্বের বৃহত্তম পরিবার এর মধ্যে একটি পরিবারে একসাথে, একই বাড়িতে বসবাস করেন চার-চারটি প্রজন্ম! একসাথে থাকতে হই ৭২ জনকে। ৭২ জন একসাথে থাকা কোনো চাট্টি খানি কথা না! গত ১৪ নভেম্বর বিবিসি বাংলার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এই পরিবারের সমেন্ধ জানা যায়। বিস্তারিত রইল প্রতিবেদনে..

ভারতের মহারাষ্ট্রের একটি পরিবারে ৭২ জন সদস্য একসাথে, একই বাড়িতে থাকেন! আর এই পরিবার নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করেন বিবিসি বাংলা। প্রতিবেদনে অশ্বিন দৈজোর নামে পরিবারের এক সদস্য জানায়, তাদের পরিবার এত বড় যে সকালে ও বিকালে প্রতিদিন ১০ লিটার দুধ প্রয়োজন হয়। প্রত্যেক বেলা খাবারের অন্তত এক হাজার থেকে বারোশো ভারতীয় রুপির সবজি প্রয়োজন হয়। খাবারের যদি মাছ-মাংস থাকে তাহলে তিন থেকে চার গুণ বেশি খরচ হয়। আর তারা বছরে চাল-ডাল কিনে রাখে, অন্তত ৪০ থেকে ৫০ বস্তা পাইকারী মূল্যে কিনে রেখে দেয়। যার ফলে খুব একটা বেশি খরচ হয় না।

দৈজোর পরিবারের বসবাসরত বাড়ী।
দৈজোর পরিবারের বসবাসরত বাড়ী। ছবি: ফেসবুক

এক বাড়িতে চার প্রজন্মের সদস্যরা থাকছেন একসঙ্গে। সোনাপুরের বসবাসরত এই পরিবারের সদস্যরা ট্রেডিং ব্যবসায় নিয়োজিত। এক পরিবারে এত মানুষ প্রথম দেখায় আপনি হয়তো চমকে গিয়েছেন, এমনটাই হয় সবার সাথে। বলা যায়, এমন যৌথ পরিবার পাওয়া বিরল!

আরো পড়ুন: আরো পড়ুন: বাসা ভাড়া পরিশোধ না করায় দরজায় তালা, রাতভর বৃষ্টিতে ভিজল পুরো পরিবার!

পরিবারের কেউ যখন প্রাত্রী দেখতে যায়, প্রথমে বিয়ে দিতে নারাজ পাত্রীর পরিবার। তেমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন পরিবারের এক নারী সদস্য। তিনি বলেন, “প্রথমে পরিবার দেখে প্রথমে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে সাহায্য করেছে। আমার শাশুড়ি, ননদ, দেবর সবাই সাহায্য করেছে। যেন আমি এখানে সুন্দরভাবেই হাসি খুশি মনে থাকতে পারি। ফলে আমার সবার সাথে মিশতে সময় লাগে না। এখন আমার খুব ভালো লাগে”

এমনকি এই পরিবারের সন্তানদের মধ্যে যৌথ পরিবারে থাকা কোনো ঝামেলায় নয়। বরং এমন পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের জীবনে অনেক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তেমনি এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন দৈজোর পরিবারের এক মেয়ে সদস্য, তিনি বলেন, “যখন ছোট ছিলাম তখন কখনো বাইরে গিয়ে খেলতে হয়নি।বাড়িতেই খেলতে পেরেছি। আমাদের পরিবারে এত সদস্য যে, এর কারনে যে কারো সাথে কথা বলতে আমরা আত্মবিশ্বাসী ও বলিষ্ঠ। একসাথে এত মানুষ থাকতে দেখে আমার বন্ধুরাও খুব অবাক হয়”

অনেকেই বলে আধুনিক যুগে, অনন্য এক উদাহরণ এই পারিবার। আরেকজন বলেছেন, “নিঃস্বার্থ ভালো মনের মানুষ এবং যাদের মনে আন্তরিকতা থাকে তারাই যৌথ ফ্যামিলির সৌভাগ্যশালী সদস্য হয়”। এমনি প্রতিনিয়ত প্রসংশা পাই দৈজোর এই পরিবারটি। এমন বিরল পরিবার দেখা যায়না বর্তমান সময়ে।

একক পরিবার ও যৌথ পরিবারের মধ্যে পার্থক্যঃ একক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর স্বাতন্ত্র্যবোধ, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, নিজের কাজ বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়। অন্যদিকে, যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুটির মধ্যে সামাজিকতাবোধ জন্মাবে, পরার্থপরতা শিখবে, অন্যের প্রতি সমব্যথী হবে। যেহেতু দুই ধরনের পরিবারে থাকলেই শিশুর গুণগত বিকাশ ঘটে, তাই দুই ধরনের পরিবারই শিশুর জন্য ভালো।

যৌথ পরিবারের সুবিধাঃ বিশ্বের বৃহত্তম পরিবার এর শিশুরা বড় হয় বড়দের দেয়া আদর, স্নেহ, মমতা, ভালবাসা ইত্যাদি নিয়ে। পরিবারের দাদা-দাদি, চাচা-চাচীদের উপস্থিতিতে যেসব শিশু বড় হয় তাদের স্বার্থপর হওয়ার সুযোগ কম থাকে। তাদের মানসিক বিকাশ ও বন্ধন হয় সুদৃঢ়। আবার যৌথ পরিবারের সদস্যরা কখনো নিজেকে একা অনুভব করেনা অথবা কোন হীনমন্যতায় ভোগে না।

যৌথ পরিবারের অসুবিধাঃ একসাথে পরিবারে অনেক মানুষ থাকায় ঝগড়া বিবাদ বেশি হয়। সম্পদ বন্টন নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিবারে কখনো একা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। যাদের পরিবারে সম্পদ নিয়ে ঝামেলা বাধে না, তারাই একমাত্র যৌথ পরিবারের স্বাদ পেয়ে থাকে।

একক পরিবার থেকে যৌথ পরিবারে সুুখ-শান্তি বেশী বিরাজ করে। দৈজোর পরিবারের সদস্যরা এখন নানা ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁরা মনে করেন একসঙ্গে থাকার তাদের একটা শক্তি এবং তারা আশা করেন যে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ভাবে একসঙ্গেই বসবাস করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button