অর্থনীতিব্যবসা-বাণিজ্য

রেমিট্যান্সে গতি কমেছে, ছয়দিনে এলো ৩৫ কোটি ডলার!

রেমিট্যান্স তথা প্রবাসীদের পাঠানো টাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় একটা অংশের যোগানদাতা। এ বছর রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনাও দুই শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এরপরও গতি বাড়েনি তেমন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেপ্টেম্বরে ১৫৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা ছিল গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ধারাবাহিকতা রক্ষা করে অক্টোবরেও রেমিট্যান্সে দেখা দিয়েছে মন্থর গতি। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ছয় দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ৭৭ লাখ বা ৩৫৭ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার সমান ১০৩ টাকা ধরে) প্রায় ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স আসছে বৈধভাবে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে। চলমান এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে ১৮০ কোটি ডলার আসবে।

অথচ তুলনামূলকভাবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্সের গতি ছিল ভালো। জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৯.৬৩ কোটি ডলার। আগস্ট মাসে ছিল ২০৩.৬৯ কোটি ডলার। গত মাস থেকেই সে ধারায় নেই রেমিট্যান্স।

আরও পড়ুন : নভেম্বরের আগে লোডশেডিং কমার কোনো আশা নেই!

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রেমিট্যান্স বাড়াতে বৈধপথে রেমিট্যান্স আনতে আড়াই শতাংশ প্রনোদণা দেওয়া হচ্ছে। এটা নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্তভাবে দেশে আসে। এতে প্রবাসীরা উৎসাহিত হচ্ছেন। তাছাড়া নতুন করে বিভিন্ন দেশে শ্রমিক যাচ্ছে, অনেক দেশ শ্রমিক নিতে চুক্তি করছে। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, আগামীতে বাড়বে প্রবাসী আয়।

উল্লেখিত সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এনেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক। এরপর রয়েছে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ডাচ–বাংলা ব্যাংক। তবে হতাশার খবর, এখন পর্যন্ত কোনো রেমিট্যান্স আসেনি সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেঙ্গল কর্মাশিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। আগের ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।