টিপস এন্ড ট্রিকসফিচারস্বাস্থ্যস্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল

হাঁটলেই কমবে হার্ট অ্যাটাক-ক্যান্সারের ঝুঁকি!

আমাদের শারীরিক বিভিন্ন জটিল রোগের মধ্যে অন্যতম হলো হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার কিংবা ডিমনেশিয়া। এসব রোগ মূলত আমাদের জীবনধারার ভুল পরিকল্পনা বা চাল-চলনেই হয়। আমাদের ভুল জীবনধারার কারণে এসব রোগের ঝুঁকিও অনেকটাই বেড়ে যায়।

তবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান এড়ানো, মানসম্পন্ন ঘুমের অভ্যাস কমায় এসব জটিল রোগের ঝুঁকি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সবারই ব্যস্ততায় দিন কাটে। ফলে, নিয়ম মেনে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার করা হয়। আর নিয়মিত শরীরচর্চার অভাবে বৃদ্ধি পায় কঠিন সব রোগের ঝুঁকি।

আর সাম্প্রতিক করা এক গবেষণায় দেখা যায়— কোনো ভারি ব্যায়াম নয়। কেবল মাত্র হেঁটেই শরীরের একাধিক রোগের ঝুঁকি কমানো কিংবা প্রতিরোধ করা যায়। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার ও ডিমনেশিয়া।

তবে কথা হলো নিয়মিত হাঁটলে কী হয়! কেনই বা এসব রোগের ঝুঁকি কমে! তো প্রথমে চলুন জেনে নিই, নিয়মিত হাঁটলে কী হয় সে সম্পর্কে:

আমরা প্রাচীনকাল হতেই শুনে এসেছি হাঁটার অনেক উপকারিতা। আসলেই তাই। নিয়মিত হাঁটার রয়েছে অনেক উপকারিতা আছে। নিয়মিত হাঁটলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্নতা ও স্থূলতার ঝুঁকি কমানো যায়, আবার কমানো যায় এর মতো অসংখ্য রোগের ঝুঁকি।

আরও পড়ুন# কীভাবে চিনবেন প্রকৃত ভালোবাসার মানুষকে!

এই বিষয়ে জামা ইন্টারনাল মেডিসিন ও জামা নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয় একটি নতুন গবেষণা। সেই গবেষণা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার কদম হাঁটে তবে তার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে যায়।

এই নতুন গবেষণাটিতে প্রায় ৮০ হাজার ব্যক্তির ফিটনেস ট্র্যাকিং ডেটা পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেখানে গবেষকের দল দেখেছেন, যেসব ব্যক্তি প্রতি মিনিটে পদক্ষেপের গতি বাড়িয়েছে সেসব ব্যক্তি দৈনিক হাঁটার কারণে অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা পেয়েছেন। তাই নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি গতি বাড়ানোর দিকেও নজর রাখতে হবে।

গবেষণা মতে, যেসব ব্যক্তি প্রতিদিন ৩০ মিনিটের জন্য দ্রুত গতিতে (প্রতি মিনিট ৮০-১০০ পা) হাঁটেন, তাদের হৃদরোগ বা ক্যানসারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কম ছিল। একইভাবে তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ কম ও সার্বজনীন মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ কম ছিল।

এই বিষয়ে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষণা ফেলো ও গবেষণার লেখক ম্যাথিউ আহমেদি বলেন— যেসব ব্যক্তির পক্ষে একটানা ৩০ মিনিট উচ্চ গতিতে হাঁটা বেশ কষ্টকর, সেসব ব্যক্তি চাইলে অল্প ব্যবধানে দ্রুত হাঁটার মাধ্যমে একই সুবিধা পেতে পারেন। এছাড়াও আবার একটানা ৩০ মিনিট না হেঁটে দিনের বিভিন্ন সময় ৫-১০ মিনিট করে উচ্চ গতিতে হাঁটলেও একই স্বাস্থ্য সুবিধা পাবেন।

তাছাড়াও গবেষকরা ওই গবেষণায় আরও দেখেছেন, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সেসব ব্যক্তিরা প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার ৮০০ কদম হেঁটেছেন তারাও সবটুকু স্বাস্থ্য সুবিধা পেয়েছেন। এমনকি যারা দৈনিক ২ হাজার পা হেঁটেছেন তাদের মধ্যেও অকাল মৃত্যু, হৃদরোগের পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ কম ছিল।

যার অর্থ দাঁড়ায়, যতো বেশি হাঁটবেন, ততই সুফল পাবেন। যারা প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটবেন তাদের মধ্যে কঠিন রোগের ঝুঁকিও কমবে অনেক।

তবে কথা হলো, কোন নিয়মে বা কীভাবে হাঁটবেন, আর এই সুফল পাবেন। তো চলুন জেনে নিই কীভাবে হাঁটবেন সে সম্পর্কে—

এই বিষয়ে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), ইউএস এর পরামর্শ দেয়। তাদের মতে, আস্তে আস্তে হাঁটা শুরু করুন ও সপ্তাহে ১৫০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করুন।

যদি আপনার হাঁটতে একঘেয়েমি লাগে তবে আপনার কোনো পোষ্য থাকলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটুন। বিশেষ করে কুকুর বা বিড়াল। এর ফলে আপনি না চাইলে হাঁটতে হবে কুকুরকে ধরে রাখার জন্য। যদি পোষ্য না থাকে তবে বন্ধুবান্ধব বা প্রতিবেশীদের সাথে আড্ডা দিন হাঁটতে হাঁটতে, এছাড়া প্রিয় মানুষের সাথে ফোনে কথা বলার সময়ও পায়চারি করুন। আবার গন্তব্যস্থলে হেঁটে যাওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই শারীরিকভাবে সত্রিয় থাকতে পারবেন।

আর হাঁটার আসলে সঠিক নিয়ম নেই। আপনি প্রতিদিন যেভাবে হাঁটেন সেভাবেই হাঁটুন। কেবল মাত্র খোলা পরিবেশে প্রতিদিন সকাল বিকাল সময় নিয়ে হাঁটুন। এছাড়াও নিজে হাঁটার পাশাপাশি আপনার পরিচিত জনকেও হাঁটার পরামর্শ দিন।

যাই হোক, আজকের মতো এখানেই। আশাকরি আপনার কাছে এই আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে। আর যদি এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন এবং এই ধরনের নিত্যনতুন আরও আর্টিকেল পেতে অনুলিপির সাথেই থাকুন।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।