ব্যবসা-বাণিজ্যসংবাদ

২০২৩ সালে সারাবিশ্বে দেখা দিতে পারে খাদ্যসংকট!

করোনা মহামারি পরিস্থিতি এখনো ঠিকঠাক সামলে উঠতে পারেনি বিশ্ব। যার রেশ ধরে মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি সহ নানাবিধ অর্থনৈতিক মন্দাও দেখা দিয়েছে। এবার আগামী বছর বিশ্বে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার (এফএও) প্রধান ডেভিড বিস্লে বলেন, খাবারের অভাব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শুধু দুর্ভিক্ষই হবে তা নয়, বরং এর জেরে বিভিন্ন দেশে বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। এই পরিস্থিতি এড়াতে আর্থিক সাহায্য করতে আরব দুনিয়াসহ বিশ্বের ধনকুবেরদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তাঁরা যদি কয়েক দিনের মুনাফাও এই খাতে দেন, তা হলেই সংকট অনেকটা কাটানো সম্ভব।

অতি সম্প্রতি এক আলোচনায় বিস্লে আরও বলেন, সাড়ে পাঁচ বছর আগে যখন তিনি জাতিসংঘের খাদ্যসংক্রান্ত বিভাগের দায়িত্ব নেন, তখন পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৮ কোটি মানুষের ঠিকমতো খাবার জুটত না। ভাবা হয়েছিল, সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা যাবে, অথচ এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫ কোটি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন বিশ্বের ৪০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগায়, অথচ যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি প্রায় পুরোটাই বন্ধ। রাশিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম সার রপ্তানিকারী এবং অন্যতম বড় শস্য উৎপাদক, কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ার নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্ববাজারে তাদের পণ্য ঠিকমতো আসছে না। সার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে বৃহত্তম উৎপাদক চীন। ফলে অন্যান্য দেশে শস্য উৎপাদন মার খাচ্ছে। আবার ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত গরম এবং বৃষ্টির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে ৯ মাসে সর্বনিম্নে নেমেছে জ্বালানি তেলের দাম!

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ জোরে দিচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব সারের সরবরাহ ঠিক করা, শস্য বণ্টনব্যবস্থা মজবুত করা ও দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর। এ কারনেই বিশ্বের ধনীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অর্থ দিয়েছে। তবে, অশোধিত তেলের চড়া দরের সুযোগে আরব দুনিয়া যে মুনাফা করছে, তার সামান্য অংশও যাতে গরিবদের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন বিস্লে।

এদিকে জানা যায়, বিশ্ববাজারে খাদ্যমূল্য পাঁচ মাস ধরে কমছে। আগস্ট মাসে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৩৮ পয়েন্ট, তা সত্ত্বেও গত বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় এ বছরের আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যসূচক ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়তি। এ বছর খাদ্যমূল্য বাড়লেও স্বল্পতা নেই। কিন্তু আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকটের জোর আশঙ্কা করছে এফএও।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।