স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল

নিম পাতা যেসব রোগের মহৌষধ

নিম একটি ওষধিগুণ সম্পন্ন, চির হরিত, বহু বর্ষজীবি বৃক্ষ। আামদের কাছে খুবই পরিচিত একটি গাছ। সকল রোগের মহৌষধ নামেও নিম পাতা বেশ পরিচিত। ঔষধি গাছ হিসেবে নিম এর ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ। কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকরি। নিম গাছ আমাদের বাড়ি ঘরের আশেপাশেই পাওয়া যায়। কিন্তু ভালো করে যত্ন ও পরিচর্যা করা হয় না নিম গাছ কে। চলুন জেনে নেয়া যাক নিম গাছের সকল উপকারিতা ও ঔষধি গুণ…

১. নিয়মিত সামান্য পরিমাণে নিমপাতা খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ নানা লিভারের সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই সঙ্গে রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত, ক্ষতিকর উপাদান বের করে শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকর।
২.দাতের রোগ দাঁতের সুস্থতায় নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার প্রচলন রয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাঁত হবে মজবুত ও রক্ষা পাবেন দন্ত রোগ থেকেও।

কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে। নিম পাতার নির্যাস জলতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায় এবং বুকে কফ জমে গেলে নিম পাতা বেটে এর ৩০ ফোঁটা রস সামান্য গরম জলতে মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চারবার খেলে উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহার করতে পারলে আরো বেশি ভালো।

৩.নিম পাতার আরেকটি বিশেষ গুণ হচ্ছে, কচি নিমপাতা বেটে মুখে লাগালে চিরতরে মুখের ব্রণ দূর হয়ে যাবে। কারণ আমাদের মুখে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে ব্রণ হয়ে থাকে। নিম পাতার পেস্ট ব্যবহার করলে এ ভাইরাসগুলো তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যায়। তাছাড়া তরকারির জন্য খুব উপকারী নিম গাছের পাতা। গায়ের দুর্গন্ধ বা ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান।

আরো পড়ুন: নখের উপর সাদা দাগ হয় কেন? নখের ফুল কি কোনো রোগের লক্ষণ!

৪. ফসলে পোকামাকড় দমনে নিম এখন বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে নিম পাতা। শুকনো নিমপাতা ধান চালের গোলায় বা ডাল, গমের পাত্রে রাখলে এসব খাদ্যশস্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। নিমপাতা বেটে ১:১০ অনুপাতে পানিতে মিশিয়ে পোকা আক্রান্ত ক্ষেতে প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যায়; বীজ সংরক্ষণে নিমপাতা অব্যর্থ মহৌষধ।

৫.যকৃৎ বা লিভারের ব্যথায় নিমছাল ১ গ্রামের সাথে কাঁচা হলুদ আধা গ্রাম এবং আমলকীর গুঁড়া ১ গ্রাম একসাথে মিশিয়ে খালিপেটে প্রতিদিন সকালে খেলে যকৃৎ ও লিভারের ব্যথা সেরে যাবে অনায়াসে।কামলা বা জন্ডিসে বাচ্চাদের জন্য ৫ থেকে ১৫ ফোঁটা বয়স্কদের জন্য ১ চা চামচ রস একটু মধু মিশিয়ে খালিপেটে খেতে হবে প্রতিদিন সকালে। এভাবে ২ সপ্তাহ খেলে জণ্ডিস সেরে যাবে।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।