টিপস এন্ড ট্রিকসস্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল

চুলের উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায়!

চুলের নানা সমস্যার মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হলো উকুন। উকুন একটা পরজীবী প্রাণি যা মানুষ বা প্রাণির শরীরের লোমে বা চুলে বাস করে। তারা মানুষের মাথার রক্ত খায়, যার দরুণ মানুষের অসস্তি বা বিরক্ত অনুভব হয়। এছাড়াও এটা মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। এই উকুনের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হাজারও পদ্ধতি অবলম্বন করলেও এর আদতে সঠিক কোনো সমাধান হচ্ছে না। তো চলুন পাঠক, আজকে আমরা জানব—চুলের উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায়!

১| মেয়োনেজ ব্যবহার: কটা জিনিস। উকুনের উপদ্রবে যারা অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন তাদের জন্য ঘরের মধ্যেই রয়েছে কিছু কার্যকরী উপাদান যা উ,কুন তাড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। কিছু ঘরোয়া এবং প্রাকৃতিক টোটকার মাধ্যমে আপনি সহজেই উকুনের কবল থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

১|মেয়নেজ ব্যবহার: উকুনের সমস্যা সমাধানের একটি কার্যকরী উপকরণ হলো মেয়নেজ। শুনতে অবাক হলেও বাজারে আমরা যে বার্গার, স্যান্ডউইচ, বারবিকিউ, ইত্যাদি খাদ্যের সাথে স্বাদ বর্ধনকারী মেয়নেজ খাই সেটাই দূর করবে উকুন। ঘরে বানিয়ে কিংবা দোকান থেকে কিনে আনতে পারেন এই মেয়নেজ। এরপর প্রথমে সম্পূর্ণ চুলে ও গোঁড়ায় মেয়নেজ লাগিয়ে নিন এবং একটি শাওয়ার ক্যাপ বা পলিব্যাগ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে নিন। ৩-৪ ঘণ্টা এমন রাখুন। এরপর চুলে চিরুনি দিয়ে খুব ভালো করে আঁচড়ে নিন। তবে অবশ্যই চিকন চিরুনি বা নিট কম্ব ব্যবহার করবেন। এরপর, ভালো একটি শ্যাম্পু দিয়ে খুব ভালো করে চুল পরিষ্কার করে নিন। সপ্তাহে এভাবে দুইবার করলে উ,কুন চিরতরে দূর হবে।

২| টি ট্রি অয়েল ব্যবহার: মাথার উকুন দূর করতে টি ট্রি অয়েল অন্যতম ঘরোয়া উপাদান। টি ট্রি অয়েল বা চা পাতার তেলে রয়েছে শক্তিশালী জীবাণুনাশক উপাদান। এই টি ট্রি অয়েল সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহারে উকুন একেবারে দূর হয়। এক্ষেত্রে, সম্পূর্ণ চুলের গোড়ায় এই তেল লাগিয়ে একটি ক্যাপ দিয়ে ঢেকে নিন। এভাবেই সারা রাত রাখুন। পরেরদিন সকালে চুল ভালো করে নিট কম্ব চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। এরপর, খুব ভালো একটা শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন।

৩|নারকেল তেল ব্যবহার: নারিকেল তেলের উপকারিতার যেন শেষ নেই। মাথায় উ,কুন হয়েছে, তো নারিকেল তেল দেবে সেই সমস্যারও সমাধান। ঠিক মেয়নেজ ও টি ট্রি অয়েলের মতোই নারিকেল তেল সম্পূর্ণ চুলে এবং চুলের গোড়ায় লাগিয়ে সারারাত শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পরের দিন আগে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে পরে শ্যাম্পু করতে হবে।

৪|পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার: আশ্চর্যজনক হলেও পেট্রোলিয়াম জেলি মাথার উকুন দূর করে। দেখা যায় অনেকের নারিকেল তেলে অ্যালার্জির সমস্যা হয়, তাদের জন্যই বিকল্প উপায় হলো এই পেট্রোলিয়াম জেলি। এটি দিয়েও মেয়নেজ, নারিকেল তেলের পদ্ধতি অবলম্বন করে উ,কুন দূর করা যায়। তবে, এই পেট্রোলিয়াম জেলির একটা সমস্যা হলো চুলে লাগালে তা পরিষ্কার করতে বেশ সময় লাগে এবং পরিমাণেও বেশি লাগে। যা ব্যয়বহুল। এইজন্য যাদের চুল তুলনামূলক ছোটো তারা এই পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহার করতে পারেন।

৫| রসুন ব্যবহার: উকুন দূর করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি হলো রসুনের ব্যবহার। তবে রসুনের তীব্র গন্ধ রয়েছে, যা অনেকের অপছন্দ। যাই হোক, শুরুতেই ৯-১০ টা রসুনের কোয়া নিয়ে (যাদের চুল বেশি তারা আরও বেশি নিন) তা পেস্ট করে নিন। এরপর এই রসুন পেস্টের মধ্যে ৩-৪ চামচ লেবুর রস দিন। খুব ভ্লো করে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এইবার মিশ্রণটি আঙুলের ডগায় অল্প অল্প নিয়ে সম্পূর্ণ চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে নিন। আধাঘন্টা এভবেই রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে ৩ দিন এমন করলে ১৫-২০ দিনের মধ্যেই উকুনের সমস্যা চিরতরে সমাধান হবে।

৬| ভেজা চুলে চিরুনি ব্যবহার: সম্প্রতি ড.তাসনিম জারাও এই পদ্ধতিকে উকুন তাড়ানোর একটি ভালো পদ্ধতি বলে উল্লেখ করেছেন এবং সবার আগে এই পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, ভেজা চুলে চিরুনি ব্যবহারের পদ্ধতিতে ১৫-২০ দিনের মতো সময় লাগবে। এক্ষেত্রে, চুল ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ভেজা চুলে চিকন চিরুনি বা নিট কম্ব ব্যবহার করে খুব ভালো করে আঁচড়ে নিতে হবে। ১৫ দিনে প্রায় ৪ বার এভাবে করতে হবে। দিনের হিসাব হবে এভাবে—প্রথম, পঞ্চম, নবম এবং ১৩তম দিন।

৭|হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার: হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেও উকুন দূর করা সম্ভব। এর গরম বাতাসের মাধ্যমে মূলত নিট বা উকু,নের ডিম দূর করা যায়। তবে, জীবন্ত উকুন হয়তো দূর হবে না। এইজন্য অন্য কোনো পদ্ধতির সাথে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে হবে। এতে করে খুব সহজেই উকুন দূর হবে।

৮|উকুনের ডিম খুঁজে বের করা: এই পদ্ধতি যেমন সময় সাপেক্ষ তেমনি অন্য কারো সহায়তা দরকার। তবে যদি চুলের ওপর অন্য কোনো উপাদান ব্যবহার করতে না চান তবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে উকুন তাড়াতে পারেন। এক্ষেত্রে নিট কম্ব বা কারো হাতের সাহায্যে একটা একটা করে উকুন বেছে নিতে পারেন। অবশ্য আপনার সাহায্যকারী যদি দক্ষ ভাবে উকুন বেছে নিতে পারে তবে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই মাথার সব উকুন দূর হবে।

আরো পড়ুন:চলতি মাসেই আবারও মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল

৯|লবণ ও ভিনেগারের মিশ্রণ ব্যবহার: উকুন তাড়াতে বেশ ভালো একটি সমাধান হলো লবণ ও ভিনেগারের মিশ্রণ। এক্ষেত্রে লবণ উকুনগুলোকে দুর্বল করে ও ভিনেগার নতুন জন্মানো উকুন এবং উকুনের ডিমগুলোকে নষ্ট করে। কিন্তু পুরোপুরি উকুন দূর করতে এই পদ্ধতির সাথে ভালো করে চিরুনি ব্যবহার করতে হবে। তবেই ফল পাওয়া যাবে।

১০|বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা: উকুন এমন একটি পরজীবী যারা বাড়িতে থাকা একজনের মাথা থেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের মাথায় স্থানান্তরিত হয়। তাই কেবল নিজে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করেই উকুন থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। উকুন থেকে পুরোপুরি রেহাই পেতে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও একই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে এবং বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে।

প্রিয় পাঠক, এছাড়াও চেষ্টা করবেন আলাদা চিরুনি, আলাদা তোয়ালেসহ ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সকল জিনিস আলাদা ব্যবহার করতে। আর চুলের গোঁড়া পরিষ্কার রাখবেন, কেননা চুলের গোড়া বা চুল অপরিষ্কার থাকলেও উকুনের উপদ্রব হয়। তারপর যদি উকুন হয় তবে এই পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করুন। এতে কাজ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে উকুন নাশক ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে উকুন নাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই ৭ বছরের বাচ্চাদের নিচে ব্যবহার করবেন না। আর বাজারের খোলামেলা উকুন নাশক ব্যবহার করা উচিত নয়। দেখা যাবে, উকুন গেলেও চুলের বেশ ক্ষতি করবে। তাই প্রথমে প্রাকৃতিক উপাদান বা উপায় মেনে উকুন তাড়ানোর চেষ্টা করুন।
আর এই টিপসগুলো ভালো লাগলে পরিচিতদের শেয়ার করুন এবং এমন আরও টিপস পেতে অনুলিপির সঙ্গেই থাকুন৷

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।