ফিচার

মশার কয়েল এর ধোঁয়া কতটা ক্ষতিকর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে মশাকে আতঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মশা মারার কয়েলের ধোঁয়ায় মশার চেয়ে মানুষেরই ক্ষতি বেশি হয়। কারণ কয়েল জ্বাললে ‘বোকা’ মশারা সেখান থেকে সরে যায়। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ কয়েল জ্বেলে নিজে সেই কয়েলের বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যেই বসে থাকে। আসলে এ ধরনের কয়েলের ধোঁয়ায় থাকে নানা বিষাক্ত যৌগের বাষ্প। থাকে প্রচুর পরিমানে সূক্ষ্ম কণা। এই ধোঁয়া শুধু মশাই তাড়ায় না, মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষেও এগুলো মারাত্মক ক্ষতিকর।

সাম্প্রতিক একটি রিসার্চ থেকে জানা গিয়েছে যে, মশার কয়েলে যে পরিমাণ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে তা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি।ওয়ার্ল্ড হেলথ্ অর্গানাইজেশন (WHO) কয়েলে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারণ করে দিলেও বাংলাদেশের কয়েল উৎপাদন কোম্পানীগুলো সেটা মানছে না। আর তাদেরকে মানানোর জন্যে সরকারও কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে, অতিমাত্রায় ব্যবহৃত কেমিক্যালের কারণে কয়েল এখন মানবদেহের জন্যে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশার কয়েলে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকে।

আর সেগুলো নি:শ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে হার্ট, ফুসফুস ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। কেউ যদি হাত ধোয়া ছাড়া খাবার খায়, তবে খাবারের সঙ্গেও কয়েলের ক্ষতিকর কেমিক্যাল পাকস্থলীতে চলে যায়।
ঘরে উড়তে থাকা বালুকণার সঙ্গেও এসব কেমিকেল সহজে মিশে যায় আর এরকম কিছু ধুলা-বালি আমরা খাবারের সঙ্গে খেয়ে ফেলি।

শুধু তাই নয়, আমাদের শরীরের ত্বকও কয়েলে থাকা কিছু রাসায়নিক পদার্থ অ্যাবজর্ব করে নেয়।সব ধরণের মানুষই কয়েলে থাকা কেমিক্যালের কারণে ভুক্তভোগী হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগে থাকে আমাদের শিশুরা, বিশেষ করে যাদের এখনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। অর্থাৎ যেসব শিশুদের ইমুইন সিস্টেম এখনো ডেভেলপ হয়নি, তাদের জন্যে কয়েলে থাকা রাসায়নিক মারাত্মক ক্ষতিকর।

আরো পড়ুন: মশার কাছে আপনাকে সুস্বাদু করে তোলে যে ভাইরাসগুলো!

গর্ভবতী মায়েদের শরীরে যদি কয়েলে বিদ্যমান কেমিক্যাল প্রবেশ করে, তবে তাদের সন্তান কিছু কিছু শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিতে পারে। যেমন, শিশুর ঠোঁট কাটা যেতে পারে। তালু ফাটা হতে পারে। স্নায়ুজনিত কিছু কিছু রোগ হতে পারে। এমনকি, শিশু হার্ট ডিজিজ নিয়ে জন্ম নিতে পারে।শুধু তাই নয়, মশার কয়েলের এইসব মারাত্মক রাসায়নিক উপাদান মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।

কারো কারো ক্ষেত্রে অকাল গর্ভপাতের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, একটা মশার কয়েল যে পরিমাণ ধোয়া উৎপন্ন করে তা ১০০টি সিগারেট থেকে উৎপন্ন ধোয়ার সমপরিমাণ।মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ও প্রধান বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট এর এক গবেষণা থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে ১০০টি সিগারেট খেলে যে ক্ষতি হয়, একটা মশার কয়েলের ধোয়ায় সেই একই পরিমাণ ক্ষতি হয়।

বাংলাদেশেসহ বিশ্বের সকল খবর সবার আগে জানতে অনুলিপির সাথেই থাকুন।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।