সাহিত্য নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা

সাহিত্য কী?

ইন্দ্রিয় উদ্ভূত জাগতিক কিংবা মহাজাগতিক বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা-চেতনা,ভাব, ধারার লিখিত রূপই সাহিত্য।

সাহিত্যে থাকে বাস্তব জীবন, থাকে প্রকৃতি-পরিবেশ কিংবা সমাজজীবন।মূলত, চিন্তাজগতের সমস্তকিছুই সাহিত্যে ধরা দেয় লেখকের নিজস্ব আঙ্গিকে। সাহিত্যকে ছকে ফেলা যায় না। সাহিত্য মূলত শিল্পেরই এক বিশেষ রূপ।

বাংলা সাহিত্যের পরিবর্তনে তারুণ্যের ভাবনা

বর্তমান সময়ে সাহিত্যের বেশ পরিবর্তন এসেছে। বাংলা সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকে এখনকার সময়ের সাহিত্যের নানান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

এই পরিবর্তন কিভাবে এলো আর বর্তমান তরুণ সমাজ এই পরিবর্তনকে কিভাবে দেখেন তারই ধারাবাহিক এক লিখিত রূপ আজ তুলে ধরছি। বর্তমান সময়ের সাহিত্য নিয়ে তরুণ সমাজ কি ভাবেন তাই থাকছে আজকের মূল বিষয়।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি: হার না মানা এক অভিনেত্রীর গল্প! 

বর্তমান বাংলা সাহিত্য নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা

তরুণদের সাহিত্য ভাবনার আজকের পর্বে মতামত তুলে ধরছি সাহিত্যের সাথে জড়িত এমনই দুইজন তরুণের।

“বর্তমান সময় নিয়ে সাহিত্য ভাবনা”, বিষয়টির পরিসীমা অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রথমত, সময়ের প্রেক্ষিতে কিছু বিচার করতে গেলে তা কয়েকটি নির্দিষ্ট সূচকে করতে হয়৷

যেমন: নির্দিষ্ট ঘটনা, নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট ব্যক্তি, নির্দিষ্ট মুহুর্ত ইত্যাদি।

এখানে প্রতিটি সূচক একে অপরের সাথে জড়িত, এবং সবগুলোকে একসাথে মেলাতে পারলে সময়ের সাপেক্ষে উক্ত বিষয়ের মূল্যায়ন বেরিয়ে আসে।

দ্বিতীয়ত, সাহিত্য ও সাহিত্যিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আমরা বিগত শতাব্দীর দিকে তাকাই, তবে দেখব অধিকাংশ উত্তম সাহিত্য রচয়িতার বিখ্যাত রচনাগুলোর সাথে তৎকালীন সময়ের কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা বা কোন রাজনৈতিক পক্ষ অবলম্বনের স্পষ্টতা রয়েছে।

বিগত শতাব্দীর দুটি বিশ্বযুদ্ধ থেকে কি পরিমান কবি সাহিত্যিক জন্ম নিয়েছে, তা গণনার বাইরে। আবার বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যের ভাবধারায় কলকাতা স্ট্যান্ডার্ড এবং ঢাকা স্ট্যান্ডার্ড যে সম্পূর্ণ আলাদা শ্রেণীভুক্ত হয়ে গেল, তা কখনো আর এক জায়গায় মিলিত হয়নি।

পাঠকপ্রিয়তা দিয়ে মানুষ বই চিনছে

বর্তমান সময়ে কবি সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা অনেক সহজ হয়েছে।

এজন্য আগের মতো মান যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া চলে না, উন্মুক্ত সমালোচনা হয় না। এখন অনেকটা পাঠকপ্রিয়তা দিয়ে মানুষ বই চিনছে, এমনটা বলা যায়।

অবশ্য অতীতে যে পাঠকপ্রিয়তা কোন বই চেনার মানদন্ড ছিল না, এমনটা বলা যাবে না। কিন্তু ঐ যে বললাম, বই প্রকাশিত হওয়ার আগে মান যাচাই বাছাইয়ের যে বিষয়, তার অনুপস্থিতিতে বেশ কিছু নিম্নমানের বইও এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

অতীতে ধর্মীয় বই, রাজনৈতিক বই, রোমান্টিক বই, এমনকি চটিসাহিত্যের বই কেনার জন্য আলাদা আলাদা দোকান ছিল, এবং প্রতিটি বইয়ের মূল্যায়ন আলাদা আলাদা স্কেলে হতো।

কিন্তু এখন ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের ফলে “একের ভেতর সব” জাতীয় বাজারব্যবস্থা বইয়ের জগতে এসে ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছে। এ কারনে বিষয়টিকে ভয়ংকর বলছি যে, যখন আপনি মানুষকে একের ভেতর সব পাবার অপশন দেবেন, তখন সে ঘুরেফিরে সেখানে তার পছন্দের একটি জায়গা থেকেই যা আছে তাই নিতে চাইবে।

তখন তার বহুমুখী মনস্তত্ত্ব না ও গড়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ, পাঠাগার বদলানো মানে যে পাঠের ধরণ বদলানো, এ বিষয়টার অনুপস্থিতি বর্তমানে উন্নত পাঠক সৃষ্টির অন্তরায় রূপে কাজ করছে।

অন্যদিকে, বর্তমান সময়ের লেখকদের মধ্যে যারা ভালো সাহিত্য লিখছেন, তারা পাঠকের মনস্তত্ব বুঝতে পারার চাইতে বর্তমান সময়ের জন্য কেমন সাহিত্য প্রয়োজন, আর সময়ের দাবি মেটানোর জন্য তার কতটুকু সামর্থ্য আছে, সে বিষয়ে বেশি ভাবেন।

যেমন ধরুন মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন এর কথা। তিনি থ্রিলার লিখতে পারেন, তাই থ্রিলার লিখেন, অনুবাদ করেন। কিন্তু এমন কিছু লেখক আছেন, যারা নিজেই জানেন না যে তারা কি লিখছেন, বা লেখার মধ্যে স্পষ্টতা ও গভীরতার অনুপাত ঠিক কি পরিমানে রাখছেন।

হয়তো পাঠকগন তাদের মার্কেটিং স্ট্রাটেজির জন্য কিছু বই কিনে পড়ছেন, বইয়ের সাথে সেলফি তুলে প্রচারণা বাড়াচ্ছেন, তবে সাহিত্যের যে মূল উদ্দেশ্য, মানুষকে বই পড়ার মাধ্যমে আত্মোপলব্ধি করতে শেখানো, তা ব্যপক আকারে ব্যহত হচ্ছে।

এ সময়ে আমরা পাঠক হিসেবে যা করতে পারি, তা হলো দেখেশুনে বই নির্ধারণ করা, যে কোন বইগুলো আগে আমাদের পড়া উচিত।

আর নতুন লেখকদেরও উচিত তড়িঘড়ি না করে আগে এটুকু জানা যে বর্তমান সময়ের সাপেক্ষে তাদের কি লেখা উচিত, এবং সে লেখনীর শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে তাদের সামর্থ্য কতটা।

মান ঠিক না রেখে বই প্রকাশে অধিক আগ্রহী হলে, বা বইটা বাজারে কম চললে হতাশ হয়ে গেলে, বা একটা বই চালানোর জন্য অপাঠকদের মাধ্যমে প্রচারণা ব্যবস্থা করলে বর্তমান সময় থেকে সাহিত্য অনেক দুরে ছিটকে পড়বে।

আর পাঠক যদি বইয়ের মান না বুঝে অপ্রয়োজনীয় বই বেশি পড়তে থাকে, তবে একটা সময় সে পাঠক হিসেবে তার উন্নত মনন তৈরিতে চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে। এর উভয়ই ভবিষ্যৎ সময় ও সাহিত্যের জন্য অশনিসংকেত।

-আশিকুর রায়হান চৌধুরী
শিক্ষার্থী, কুয়েট।

আধুনিক সময়ে বাংলা সাহিত্য : তারুণ্যের ভাবনা

বাংলা সাহিত্যের অঙ্গন সুদীর্ঘ কালের পরিক্রমায় প্রায় পূর্ণতা প্রাপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে। এই সাহিত্যের ভুবনের স্থায়ী উপাদান কবিতা, গান, ছড়া, ছোটগল্প, নাটক উপন্যাস থেকে শুরু করে মহাকাব্যসহ প্রায় সব ধরনের সাহিত্যাবলি। দিনে দিনে সাহিত্যের অগ্রগতি আমাদের জন্য আশার বার্তাবহন করে আনছে।

আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলাতে দেশের আগামী লেখকদের জন্য একটা গঠনমূলক সাহিত্যের ক্ষেত্র তৈরি করাটা সময়ের দাবি। এর জন্য দরকার সাহিত্যের ক্ষেত্রেরও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা এবং বিদেশি সাহিত্যের থেকে সম্পদ আহরণ করে দেশের সাহিত্যের মানের উন্নয়ন ঘটানো। এ উদ্দেশ্যে বাংলা ভাষাতে নানা দেশের নানা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যগ্রন্থের অনুবাদ করা এখন সময়ের দাবী।

প্রাইভেট পড়ানো যাবে না নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে!

সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমি যথাযথ অনুবাদের দিকে মনোযোগী হয়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধি করতে চাই এবং দেশের সাহিত্যিক ও পাঠকদের জন্য বিশ্বসাহিত্য চর্চার প্রয়োজনে একটি উপযোগী ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাই।

লেখক: তর্নিকা হাজরা
স্নাতকোত্তর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Adblock Detected

Dear Viewer, Please Turn Off Your Ad Blocker To Continue Visiting Our Site & Enjoy Our Contents.