পড়াশোনামোটিভেশন

পরীক্ষাতে কিভাবে সহজেই ভালো রেজাল্ট করার টিপস এবং টেকনিক।

পরীক্ষার মধ্যে কিভাবে ভালো রেজাল্ট করতে হলে সব সময় ভালো করে পড়ালেখা করতে হবে,কখনোই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় না অগোছালো পড়াশোনা করে

পরীক্ষার মধ্যে কিভাবে ভালো রেজাল্ট করা যায়। অল্প সময়ের মাঝে কিভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায়। এই সকল গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি সাজিয়েছি। আপনি যদি আপনার পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত হয়ে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। সব সময় প্রচুর পড়ালেখা করে ভালো রেজাল্ট করা যায় না তার জন্য প্রয়োজন স্মার্ট প্রিপারেশন। আপনার প্রিপারেশন যদি হয় সাজানো গোছানো তাহলে অল্প পড়াতেই ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব। আর আপনার পড়ালেখা যদি হয় হ য ব র ল ,তাহলে প্রচুর পড়ালেখা করেও পরীক্ষা শেষে ভালো রেজাল্ট করা সম্বভ নয়। তাহলে চলুন সেই গুরুত্বপূর্ণ টিপস গুলো এক এক করে জেনে নেই।

(১) পড়াশোনার রুটিন তৈরী করা> পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে রুটিন করে পড়ার গুরুত্ব অনেক। পড়াশোনা করতে হবে রুটিন অনুযায়ী অবশ্যই ভালো রেজাল্ট করতে হলে। কখনোই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় না অগোছালো পড়াশোনা করে। পরীক্ষার রেজাল্ট পেয়ে হতাশ হতে হয় অগোছালো পড়াশোনার জন্য অনেকের। তাই একটি রুটিন তৈরি করুন দিন, মাস, সপ্তাহের। এবং রুটিন অনুযায়ী দিনের পড়া দিনে শেষ করুন। তাছাড়া, নিয়মিত রুটিন মাফিক পড়াশোনা করার অভ্যাস করে নিলে পড়ার প্রতি মনোযোগ সৃষ্টি হবে। রাতে-দিনে ৬-৭ ঘন্টা পড়াশোনা করলেও বোরিং লাগবে না।

(২) বিষয় ভিত্তিক সময় নির্ধারণ করা> আপনার অনেক বিষয় থাকতে পারে। কোনটা কোন সময় পড়বেন বা কত সময় পড়বেন তা নিয়ে অনেক সময় পড়ায় বসলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পরতে হয়। তাই রুটিনের মধ্যে কোন বিষয়ে কত সময় পড়বেন তা নির্ধারণ করুন। আপনি যে বিষয়ে দুর্বল সে বিষয়টি একটু বেশি সময় দিন।

(৩) পড়ার পাশাপাশি লেখার অভ্যাস করুন> আমরা পরীক্ষার প্রিপারেশনের জন্য কোন সময় লিখি না, শুধুই পড়ে যাই। যার কারণে পরীক্ষায় গিয়ে লেখতে অনেক সময় অসুবিধা হয়।আপনাকে পড়ার পাশাপাশি লেখার অভ্যাস করতে হবে। কোন পড়া আপনার অনেকদিন পর্যন্ত মনে থাকবে যদি ওই পড়ার পাশাপাশি খাতায় লিখে রাখেন। এবং নিয়মিত লেখালেখি করলে আপনার হাতের লেখা দ্রুত এবং সুন্দর হবে। পড়ার পরে লেখার মাধ্যমে আপনার ভুল গুলো সহজে ধরতে পারবেন এবং পরে সেটা সংশোধন করে নিতে পারবেন। আমাদের মাঝে অনেকে আছেন যারা ভালো বলতে পারে কিন্তু পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারে না তাদের কখনোই ভালো রেজাল্ট আশা করা যায় না। তাই আপনাকে অবশ্যই পড়ার পাশাপাশি লেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

(৪) গ্রুপ তৈরি করে পড়াশোনা করা> অনেক সময় একা একা লেখাপড়া করতে ভালো লাগেনা। সেই সময়টা গ্রুপ করে সবাই একসাথে স্টাডি করা যায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ধারণা আদান-প্রদান করা যায়। সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়। অনেক অজানা তথ্য জানা যায়।

(৫) বিগত পরিক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা> পরীক্ষার্থীদের জন্য এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হতে পারে। যেকোনো পরীক্ষার জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন ধরনের প্রশ্ন আপনার পরীক্ষা আসতে পারে। তাছাড়া বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে হুবহু অনেক প্রশ্ন চলে আসে। তাই সকলের শিক্ষার্থীদের উচিত বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে শেষ করা।

(৬)নোট তৈরি করা>পরীক্ষার পূর্ব মুহূর্তে ক্লাসে বা কোচিং সেন্টারে যেগুলো পড়ানো হয়। বা অনলাইনে যে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসগুলো করানো হয় সেগুলো ভালোভাবে নোট করে রাখা। নোট করে রাখলে পরীক্ষার দিন সহজে রিভিশন দিতে পারবেন। নোট তৈরির মাধ্যমে আপনার পড়া অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

( ৭) নিয়মিত ক্লাস করা> আপনি যতই বাসায় বসে পড়ালেখা করেন না কেন ক্লাসের পড়ার কোন বিকল্প নেই। একজন ভালো ছাত্রের উল্লেখযোগ্য একটি গুণ হলো সে নিয়মিত ক্লাস করে। আপনি যখন একজন টিচারের লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। সেই পড়াটি বাসায় এসে মুখস্থ করতে সহজ হবে।

(৮) পড়ার পরিবেশ তৈরি করা> ভালো মানের পড়ালেখা করার জন্য একটি নিরিবিলি মনোরম পরিবেশের দরকার হয়। অনেক সময় দেখা যায়, আপনি এক জায়গায় বসে পড়াশোনা করছেন। তার পাশে অনেকে বসে গল্প করছে। এবং বাচ্চারা খেলাধুলা করছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় আপনি যেখানে পড়ালেখা করেন সেই পরিবেশটা অনেক নোংরা। নোংরা পরিবেশে পড়ালেখা করতে মন বসে না। তাই চেষ্টা করুন। আপনার নিজের পড়ার টেবিল এবং রুম সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে।

(৯) ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া> আপনি তো জীবনে অনেক পরীক্ষা দিয়েছেন। বিগত পরীক্ষাগুলোতে কি কি ভুল করেছেন সেই ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কোন ভুল করার জন্য আপনি নাম্বার কম পেয়েছেন সেটার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ভুল গুলি বের করে সমাধান করার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

আর পড়ুনঃ চোখের যত্ন নেওয়ার উপায়

(১০) নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন>ভালো রেজাল্ট করার জন্য মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে, যে আপনি অবশ্যই পারবেন।
মনে করুন, আপনি অংকে দুর্বল, এখন অংক দেখলে ভয় পেলে চলবে না। বার বার মন দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। আর পরিক্ষার সময় নার্ভাস হলে চলবে না।
আপনি অবশ্যই পারবেন এমন বিশ্বাস এবং আস্থা নিজের উপর তৈরি করতে হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখলে যেকোনো কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

বাংলাদেশেসহ বিশ্বের সকল খবর সবার আগে জানতে অনুলিপির সাথেই থাকুন।

(১১) পর্যাপ্ত ঘুম যাওয়া> সর্বশেষ যে তথ্যটি দিব, সেটি কোন পড়ার বিষয়ে নয়। একটি মানুষের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে তার ঘুম। আপনি যদি নিয়মিত না ঘুমান তাহলে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে যাবেন। এবং নিয়মিত ঘুম না হলে পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য কাজও মন বসবে না। পড়ালেখা করার জন্য ঘুম ছেড়ে দিবেন না। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।