ফিচার

বিড়াল কেন মুখে করে মরা প্রাণী বাড়িতে নিয়ে আসে?

আজ আমরা জানবো আপনার পোষা বিড়ালটি মাঝে মাঝে বাহির থেকে প্রাণী শিকার করে মেরে রুমে নিয়ে আসে কেনা

পোষা বিড়াল যেন আমাদের এক রাজকীয় প্রাণী। অন্যান্য পোষ্য প্রাণীর চেয়ে তার ধরন আলাদা। মালিকরা ভিবিন্ন আহ্লাদিত থাকেন তার পোষ্য প্রাণী নিয়ে। তারা দাবি করেন, বিড়ালের সমস্ত আচরণের পেছনেই রয়েছে গূঢ় ও জরুরি কোনও কারণ। বস্তুত, বিষয়টি খুব একটা মিথ্যে নয়। বিড়াল বিভিন্ন কারণেই সাধারণত নানারকম কার্যকলাপ করে থাকে, যার প্রতিটিই বিশ্লেষণ করে দেখলে কোনও না কোনও সূত্র মেলে। আপনার যদি পোষা বিড়াল থাকে, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। আপনার পোষা বিড়ালটি মাঝে মাঝে বাহির থেকে প্রাণী শিকার করে মেরে রুমে নিয়ে আসে।

আবার সে কিন্তু রুমের ভিতরে ভালো করেই পেট পুরে খাবার দাবার খাচ্ছে। তাহলে বিড়ালের তো শীকার করার কোন প্রয়োজন হয় না। আমাদের জানা উচিত,বর্তমান সময়ে বিড়াল একটি পোষা প্রাণী হলেও, পূর্বে এই প্রাণীটি ছিল শিকারি প্রাণী। বিড়ালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা মাংসাশী। আপনি আপনার পোষা প্রাণীটির প্রতি মাঝে মাঝে লক্ষ্য করলে থাকতে পারবেন। মুখে করে মরা পাখি, মরা ইঁদুর বা অন্য কোনও মৃত ছোট প্রাণী মুখে করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। গবেষক বিদগন বলছেন,বিড়ালের এই আচরণের নেপথ্যে রয়েছে।

কেননা, তারা জন্মগতভাবেই শিকারী প্রাণী। তাই তারা সুযোগ পেলেই কিছু স্বীকার করার চেষ্টা করে। এমনকি শিকার ধরে যেখানে সেখানে বসে না খেয়ে। তারা বাসায় নিয়ে আসে এবং ছানাদের সাথে মিলেমিশে খায়। কোনও কারণে যদি শিকার করার পরে তখনই না খায়, তাহলেও সে শিকার ছেড়ে আসে না, সেটি মুখে করে বাড়িতে নিয়ে আসে পরে খাবে বলে। বিড়ালের প্রতি আপনি আরেকটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, বিড়াল ঘনঘন আড়মোড়া ভাঙে। একটি বিড়াল প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা করে ঘুমায়। যখন বিড়াল ঘুমাতে যায় অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে তখন বিড়ালের রক্তচাপ প্রায়ই কমে যায়।

ফলে বারবার স্ট্রেচ করলে তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। মলত্যাগের পরে তা চাপা দেয় বিড়াল:মাটিতে বা বালিতে গর্ত করে সেখানে মল ত্যাগ করে তার পরে তা ঢেকে দেয় বিড়াল। এ দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। এই আচরণের জন্য অনেকেই বিড়ালের পরিচ্ছন্নতারও প্রশংসা করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার কোনও সম্পর্ক নেই। বিড়াল আসলে তার চিহ্ন লুকিয়ে ফেলতে চায়। শত্রুরা যেন তার অবস্থানের জায়গা সম্পর্কে কিছু জানতে না পারে, কোনও গন্ধ না পায়। সেজন্যই তারা এমনটা করে। খাদ্যাভ্যাসে মাংস থাকা প্রয়োজন কারণ বিড়াল টাউরিন উৎপাদনে অক্ষম। টাউরিন হচ্ছে একধরনের অ্যামাইনো এসিড। বিড়ালদের দাঁতের ক্ষতি, লোম পড়া, অন্ধত্ব ইত্যাদি প্রতিরোধে সাহায্য করে এই অ্যামাইনো এসিড।

আরো পড়ুন: দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

ফলে তারা প্রায়ই শিকার করার মুডে থাকে, এমনকি পেটে পর্যাপ্ত খাবার থাকলেও বিড়ালকে শিকার করতে দেখা যায়। এর থেকে বুঝতে পারি, বিড়ালের জন্য খাওয়া ও শিকার দুটো আলাদা আলাদা প্রয়োজন। বিড়াল প্লেফুল স্বভাবের হয়, যেকোনো খেলনা ও চলন্ত যেকোনো কিছু দেখলে বিড়াল ট্রিগার হয়ে যায়। বিড়াল বিভিন্ন ধরনের খেলনা দিয়ে খেলতে পছন্দ করে, এগুলো তাদেরকে শিকার করার মতোই আনন্দ দেয়। তাছাড়াও অনেক সময় মা বিড়াল বাচ্চাদের শিকার শেখানোর উদ্দেশ্যেও শিকার করে এনে দেখায়। শিকার করার জন্য অনেক প্রাণী থাকলেও বিড়াল বিশেষ করে ইঁদুরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কারণ ইঁদুর বিড়ালের জন্য যথাযথ শিকার। ইঁদুর এলোমেলোভাবে ছুটোছুটি করে যা বিড়ালকে আকৃষ্ট করে। বিড়াল প্রাকৃতিক শিকারী এবং শিকার করার অভ্যাস তারা পূর্বপুরুষ থেকে পেয়েছে।

Back to top button

Opps, You are using ads blocker!

প্রিয় পাঠক, আপনি অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করছেন, যার ফলে আমরা রেভেনিউ হারাচ্ছি, দয়া করে অ্যাড ব্লকারটি বন্ধ করুন।