ইতিহাসঐতিহ্যফিচারবিখ্যাত জায়গালোকসংস্কৃতি

দোয়েল চত্বর: ঐতিহ্যের শৌখিন রাজ্য!

অবহমান বাংলার ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে মৃৎশিল্প ও কারুশিল্প। বাংলার মানুষ এই ঐতিহ্যকে আষ্টেপৃষ্টে লালন-পালন করে তাদের যাপিত জীবনে। লোকসংস্কৃতিতে মৃৎ, কাঠ, বেত শিল্প গ্রামীণ ঐতিহ্য বহন করে। গ্রাম ছাড়িয়ে এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আজ শোভা পায় শহুরে জীবনে। কিংবা হয়তো শৌখিন নাগরিকদের বসার ঘরে। মৃৎশিল্প, কারুশিল্প এবং বেতশিল্প নাগরিক জীবনে তাই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই তিন শিল্পের মেলবন্ধন দেখতে পাওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে। দোয়েল চত্বর ঐতিহ্যের এক শৌখিন রাজ্য। এখানে গেলে শহুরে হস্তশিল্পপ্রেমীরা হারিয়ে যায়। সারি সারি বাহারি হস্তশিল্পে দোকান রয়েছে এখানে। শৌখিন এই পণ্যের চাহিদা শহুরে জীবনে নেহাৎ কম নয়। দিন দিন আরও বাড়ছে এ শিল্পের চাহিদা।

হস্তশিল্প:

সাধারণত হাতের তৈরি শিল্পকেই হস্তশিল্প বলে। নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিয়ে হস্তশিল্প করা হয়। সাধারণ কিছু উপকরণের সাহায্যে অনায়াসে তৈরি করে ফেলা যায় এসব পণ্য। কতিপয় হস্তশিল্প পণ্য রয়েছে যেগুলির কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এসব নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের উৎস হচ্ছে একটি অঞ্চল বা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আবার বলা যায়, কারুশিল্পীদের বিশেষ উৎপাদন কৌশল।

আদি ও মধ্যযুগীয় লোকায়ত বাংলার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ছিল হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প। বয়ন, ধাতব পদার্থের কাজ, জুয়েলারি, বিশেষ করে রূপার তৈরি অলঙ্কার, কাঠের কাজ, বেত এবং বাঁশের কাজ, মাটি ও মৃৎপাত্র হস্তশিল্প প্রসিদ্ধ ছিল। এসব কাজ দেখতে ছিল অতি চমৎকার।

আরও পড়ুন# এপিজে আবদুল কালাম : ভারতের মিসাইল ম্যান!

বঙ্গদেশে উৎপাদিত উচ্চমানের সুতি এবং রেশমি বস্ত্রের জনপ্রিয়তা সবখানেই ছিল। ষোড়শ শতাব্দী থেকে বঙ্গদেশে উচ্চমানের হাতে বোনা বস্ত্র, উন্নতমানের গজদন্ত, রূপা এবং অন্যান্য ধাতুর তৈরি কারুপণ্য মুঘল দরবারেও সমাদৃত হয়েছিল। এজন্য মুঘল সম্রাটগণ কারুশিল্প পণ্যের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।

তারা কারুশিল্প পণ্যের কারিগর সম্প্রদায়কে সাজসজ্জা এবং উপঢৌকনের দ্রব্যাদি তৈরির কাজে নিয়োগ করেছিলেন। প্রথমদিকে মুঘল শাসনের নিপুণ কারিগরদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে তাদের বাড়তি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হতো। এসব কারুশিল্পপণ্যের কারিগর দিল্লীর সম্রাটের দরবারের জন্য দুর্লভ এবং উচ্চমানের উপহার দ্রব্য তৈরি করতেন। এ সমস্ত দ্রব্য ব্যবহার করতেন শাসকশ্রেণি এবং অভিজাতশ্রেণি। এজন্য তখন হস্তশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। সে আমলে হস্তশিল্প তৈরিতে কারিগরগণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে তারা মূলত তাদের পরিচিত লোকদের জন্য কাজ করত এবং এই কারণেই তাদের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে লক্ষ্যণীয়ভাবে ব্যক্তিগত রুচি এবং আন্তরিকতার ছাপ থাকত। যা তাদের শৌখিন রুচি ও কাজের পরিচায়ক।

শত শত বছরের পুরোনো বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা অংশ হলো হস্তশিল্প। এর মধ্যে রয়েছে নকশী কাঁথা, বাঁশ-বেত শিল্প প্রভৃতি। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির অংশ। যা এখনও বহমান।

দোয়েল চত্বর এর হস্তশিল্পের দোকান:

ঢাকা গেট, কার্জন হল, শিশু একাডেমি ও তিন নেতার মাজার সংলগ্ন জাতীয় পাখি দোয়েলের ভাস্কর্য সম্বলিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চত্বরটি বিভিন্ন কারণে নামকরা। বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েলের একটি স্মারক ভাস্কর্য। এর স্থপতি হলেন আজিজুল জলিল পাশা। এটি বাংলাদেশের জাতীয় বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক যা দেশের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে দোয়েল চত্বর। দোয়েল চত্বরের অন্যতম আকর্ষণ তিন নেতার মাজার সংলগ্ন হস্ত-কারুশিল্পের দোকানের সারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দোয়েল চত্বর সংলগ্ন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পশ্চিম পাশে রাস্তার কোল ঘেষে রয়েছে এমনই চোঁখ জুড়ানো পণ্যের পসরা সাজানো একঝাঁক দোকান।

দোয়েল চত্বর: ঐতিহ্যের শৌখিন রাজ্য!
দোয়েল চত্বর

প্রায় ৩০ বছর ধরে ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্বরের দোকানগুলো। বছরের প্রায় প্রতিদিন এ মার্কেটের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও পহেলা বৈশাখ, বিয়ে ইত্যাদি নানা রকমের আচার অনুষ্ঠানে এ মার্কেটে ক্রেতাদের ধুম পড়ে। লোক ও কারুশিল্পীরা দোয়েল চত্বর এলাকায় প্রায় ৪০টি মৃৎশিল্পের দোকানসহ মোট ৫০টি বাঁশ, বেত ও কাঠের হস্তশিল্পের দোকানে নানা বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে বসে। সবগুলো দোকানই হস্ত-কারুপণ্যের বাহারি জিনিসপত্রে ভরা। সারি সারি দোকানে মাটি, কাঠ, পাট ও বেতের বিভিন্ন তৈজসপত্র সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। এখানে শৌখিন মানুষের ভিড় বেশি।

মৃৎ-হস্ত-কারুশিল্প:

মৃৎশিল্প আমাদের দেশের নিজস্ব একটি লোকশিল্প। এ দেশেরই মাটি দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন মৃৎপণ্য। মার্কেট ও বিপণি-বিতানে সাধারণত দেখা যায় কাঁচের তৈরি জিনিসপত্র অথবা ক্রিস্টাল পণ্য। এতে আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মৃৎশিল্প ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্র্যময়। এগুলো ঘরের দেয়ালে সাজালে সুন্দর লাগে। শহুরে জীবনে শোভা পায় বসার ঘর বা ডায়নিং রুমে।

দোয়েল চত্বর এলাকার মূল আকর্ষণ মাটির তৈরি জিনিসপত্র। এখানে পাওয়া যায় মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র। যেমন- ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের হাঁড়ি-পাতিল, দইয়ের মালসা, মাটির ঢোল, পিঠা বানানোর ছাঁচ, সরা, মিষ্টির পাতিল, রসের হাঁড়ি, ফুলের টব, রঙিন ঘোড়া, নানা রঙের পুতুল, নানা ধরনের পাখি, টব, জলকান্দা, মাটির ব্যাংক, ঘটি, বাটি, জালের চাকা ও প্রতিমা, কলস, সরা, ফুলদানি, বাহারি খেলনা, মাটির সানকি, কাপ-পিরিচ, জগ, থালা, বাটি, পোড়ামাটির ভাস্কর্য, মাটির তৈরি ফলমূল, মাটির তৈরি গলার মালা, কানের দুল, মাটির বিভিন্ন অলঙ্কার, মাটির তৈরি বৈশাখী চুড়ি।

আরও পড়ুন# হাটবাজার: লোকায়ত বাংলার অর্থনীতির প্রাণ!

বেত ও কাঠের জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে শোপিস, পাটের শিকা, পুতুল, সাইডব্যাগ, হোগলা পাতা ও নারিকেলের খোসার তৈরি নানা ধরনের শোপিস। এছাড়াও নকশী করা তালপাতার পাখা, হ্যান্ডপার্স, কারুকার্য করা আয়না, বাঁশের বাঁশি, কুলো, ডালা, পাখি, নৌকা, একতারা, ডুগডুগি, ঢোল, মাথার মাথাল, সাপের বীণ, পুঁতির মালা, কুঁড়েঘর ও গ্রাম্য চিত্রকর্মসহ হাজারও বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী পণ্য রয়েছে।

মৃৎশিল্প ও হ্যান্ডি ক্রাফটের স্বর্গ এই শো-পিসের দোকানগুলোতে মূলত বাঁশ, কাঠ, মাটি ও পাটের তৈরি শো-পিস বিক্রি করা হয়। এসকল পণ্যের মধ্যে পাটের তৈরী দোলনা, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, পর্দা, ব্যাগ, মাটির তৈরি চুড়ি, ফুলদানী, কাচের গয়না, কাঠের চিরুনি, একতারা, আয়না, জুয়েলারি বক্স ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

শহুরে জীবনের শোভা বর্ধন:

বাঁশ, কাঠ, পাট ও মাটির তৈরি আসবাবপত্র ও শো-পিস ঘরের শুধু শোভাবর্ধনই করে না, এসব জিনিসের জন্য রয়েছে আমাদের মনের টান। এগুলো আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তাই এখন অনেক উচ্চমধ্যবিত্ত ও বিত্তশালীর চমৎকার ইন্টোরিয়র ডিজাইন করা ঘরে এগুলোর উপস্থিতি বেশ ঈর্ষনীয়। সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই দোয়েল চত্ত্বরের বাঁশ, কাঠ, পাট ও মাটির আসবাবপত্রের চাহিদা ব্যাপক।

চার রাস্তার মোড়ে সৌন্দর্য, শিল্প ও শৌখিনতার প্রতিবিম্ব হিসেবে অবস্থান করছে বেশ কিছু উপহার ও গৃহস্থালী সাজানোর কাজে ব্যবহৃত শৌখিন সামগ্রীর দোকান। মেয়েদের হাতে চুড়ি, কাঠের গয়নার বাক্স থেকে শুরু করে হ্যান্ডব্যাগ, ব্রেসলেট, গলার নেকলেস, ফুলের টব, মাটির হাড়ি, দেয়ালে টাঙানোর জন্য ভাস্কর্যসহ হাজারো রকমের পণ্যের সন্ধান পাবেন এখানে। প্রিয় মানুষকে উপহার দেয়া কিংবা নিজের ড্রয়িং-লিভিং রুম সাজানো-উদ্দেশ্য আপনার যাই হোক না কেনো সাধ্যের মাঝে সবকিছুর সমাধান পাবেন এই জায়গায়।

দোয়েল চত্বরের দোকানগুলোতে এমন অনেক জিনিস আছে যা শহুরে ঘরে এনে দেবে বাঙালিয়ানা। এখানকার মাটির জিনিসগুলোতে আছে টেরাকোটার কাজ। রয়েছে পোড়া মাটির একহারা গড়নে শৈল্পিকতার সংমিশ্রণ। আগে মাটির জিনিস শুকনো খাবার রাখার কাজে ব্যবহার করলেও যুগের হাওয়া বদল ঘটেছে। সেই সঙ্গে এখন মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে অনেক কিছু। ঘরের সাজ-সজ্জার জিনিস থেকে শুরু করে নিত্যদিনের ব্যবহারের জিনিসসহ গায়ের গহনাও তৈরি হচ্ছে মাটি দিয়ে। যা শহুরে রমণীদের পছন্দের শৌখিন অলঙ্কার।

দোয়েল চত্বর এর মৃৎ-হস্ত-কারুশিল্পের দোকানি-কারিগর ও তাদের জীবিকা:

১৯৯৬ সালে ঢাকা মহানগরী মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতির সাথে সম্পৃক্ত হয়। স্বল্প পুঁজি, দেশীয় কাঁচামাল ও সহজে তৈরি করা যায় বলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ স্বস্তি দেখা যায়। কার্জন হলের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত এই কারুশিল্পের দোকানগুলোতে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সামগ্রীই ঢাকার আশেপাশের অঞ্চলের ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের শিল্পীদের হাতে তৈরি। তবে সাভার, নারয়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, কুমিল্লা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, বগুড়া, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী সহ নানা জায়গা থেকে পণ্য আসে এখানে৷ মৃৎশিল্পগুলো সরাসরি কুমারদের কাছ থেকে নিয়ে আসায় জিনিসগুলোর মান ভালো হয় এবং দামও কম।

সারা দিনই দোয়েল চত্বরের এসব দোকানগুলোয় টুকটাক ক্রেতা থাকে। ছুটির দিন ভিড় আরও বাড়ে। আর বিভিন্ন উৎসবের আগে বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখে এ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেদিন প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়। তবে সেদিন আবার অনেক ক্রেতা ভিড়ের কারণে দোকানে আসতে পারে না। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এখানে দোকানগুলো খোলা থাকে।

তবে বর্তমান সময়ে এই শিল্পের দুর্দিন যাচ্ছে। ব্যবসা অনেক কম হয়। আগের থেকে পণ্যের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। যেমন- আগে মাটির দাম ছিল ৬০০ টাকা এখন তার দাম দুই হাজার টাকা। কাঁচামালের এমনই বেহাল দশা যে, আগে টাকা দিয়ে রাখলেও সময়মতো মাটি পাওয়া যায় না। আর কাঠের দামও অনেক বেশি। এরপরও এখানকার দোকানি ও কারিগররা চেষ্টা করে ক্রেতাদের বৈচিত্র্যময় কিছু দেওয়ার। যাতে তারা আধুনিককালেও মাটির জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সে জন্য তাদের বিভিন্ন কসরতে মাটির জিনিসগুলো তৈরি করতে হচ্ছে।

দোয়েল চত্বর: ঐতিহ্যের শৌখিন রাজ্য!
দোয়েল চত্বরের হস্তশিল্পের দোকান

তবে এই শিল্পটিকে আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। দোয়েল চত্বরের এই স্থানটি মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প ও কারুশিল্পের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দেশি ও ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এখানে টিকে আছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ এই শিল্পে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। প্রয়োজন শুধু পৃষ্ঠপোষকতার। যদিও শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নানা রকম স্বল্প মেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা রেখেছে এসব ব্যবসায়ের সাথে জড়িতদের জন্য। এ শিল্পের আরো উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান থাকবে। দেশীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারও সমাগম হয় এখানে। তারা তাদের পছন্দ মত বিভিন্ন পণ্য এখান থেকে সংগ্রহ করে থাকে। এ মার্কেটের পণ্য দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বাইরেও। তার মধ্যে বেতের তৈরি ঝুড়ি ও পাটের ব্যাগ অন্যতম।

কিন্তু দোকানিদের স্থায়িত্ব নেই। নানা অজুহাতে তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়। আর তখন তাদের দুর্দিন চলে আসে। হঠাৎ করেই পুলিশি অভিযানে তাঁদের অনেক মালপত্র নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রয়োজনে মৃৎশিল্প পণ্যের এ বাজারটি সমিতির নামে অস্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা অনেক উপকৃত হবেন।

পণ্যের দাম:

দাম সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত। যেমন- বিভিন্ন আকারের পাটের শিকা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, পাটের টেবিল ম্যাট ৬০ থেকে ১২০ টাকা, পাটের দোলনা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাটের ফ্লোর ম্যাট ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা, পাটের পর্দা ১০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাটের লাঞ্চ বক্স ৭০ থেকে ১৮০ টাকা। কাঠের পণ্যের মধ্যে একতারা ৭০ থেকে ১৪০ টাকা, ম্যাগাজিন বক্স ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, কলমদানি ১২০ টাকা, চিরুনি ৮০ টাকা, শোপিস ২২০ থেকে ৫৫০ টাকা, আয়না ৫০ থেকে ২৫০ টাকা, মানচিত্র ৯০ টাকা, হারিকেন ১৪০ টাকা, কোরআন শরিফ রাখার রেহাল ৩০০ থেকে ৮৫০ টাকা, বিভিন্ন কাঠের পেইন্টিং ১৫০ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যে পাওয়া যায়।

আবার যেমন মাটির বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ফুলদানি ৪০ থেকে ৬০০ টাকা, সূর্য ফুলদানি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, কামান ফুলদানি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, রুট ফুলদানি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, জব ফুলদানি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, লাউ ফুলদানি ৪৫০ টাকা, রজনী ফুলদানি ৪০ থেকে ১৫০ টাকা, রাজ ফুলদানি ১৫০, ক্যাদা ২৫০, পেন ফুলদানি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, মাটির ঘোড়া ১৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকা, মাটির হাতি ১৫০ থেকে তিন হাজার টাকা, ধূপদানি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে বা উৎসবে দামের তারতম্য ঘটে। ক্রেতা-বিক্রেতা দরদামের মাধ্যমে পণ্য বিকিকিনি করে।

কম খরচে মানসম্মত, শৈল্পিক পণ্যের সাহায্যে ঘর সাজাতে কিংবা প্রিয় মানুষকে খুশি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের এই বাহারি পণ্যের সমাহার খুবই আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ।

লোকশিল্প বাঙলার মানুষের শেকড়ের সাথে মিশে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের এসব দোকানগুলো দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে সহায়তা করছে। শোভা বাড়াচ্ছে নাগরিক জীবনে। দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় এ সমস্ত পণ্যদ্রব্যে ব্যবহারে সঠিক প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো হারিয়ে যাওয়া এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button