লৈঙ্গিক পরিচয়ে নারীর পায়ে শেকল দেওয়া— রুখতে হবে!

 অনুলিপির পোস্ট সবার আগে পড়তে গুগল নিউজে ফলো করুন 👈

“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর…”

কবিতাংশটি গত শতাব্দীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা- আজকে যখন দেখা যায় বিদ্রোহী কবি নজরুলের নতুন সব ভক্তবৃন্দ, যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে পৃথিবীর যাবতীয় ফেতনার অদ্বিতীয় কারণ; নারী- দুর্ভাগ্যের বিষয় নজরুল আজ তাঁর ঠিক বিপরীত মতাদর্শের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। অসাম্প্রদায়িকতার অমিয় উদাহরণ নজরুল, ধর্মনিরপেক্ষতা যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিল, যিনি নারীকে দেখতেন না অচ্ছুৎ কিংবা অমর্যাদার চোখে, সেই নজরুল যে দেশের জাতীয় কবি সেই দেশ বর্তমানে লিঙ্গ সমতা অর্জনে ১৪৬টি দেশের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে অবস্থান করছে ৭১তম স্থানে! (তথ্যসূত্র: জার্মান ভিত্তিক খবর মাধ্যম DW, ২০২২)

আজকের আলোচ্য বিষয় কবি নজরুল নন। একটু আলাপ করার চেষ্টা করব লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে…

এই উত্তরাধুনিক ২০২২ খৃষ্টাব্দে এসে যখন শুধু মানুষের লৈঙ্গিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে করা বৈষম্যের ব্যাপারে কথা বলতে হয়, মানুষ হিসেবে তা অত্যন্ত লজ্জার, পীড়া দেয়। আমরা যদিও নিজেদের পরিচয়ে মানুষ বলি তথাপি, কাজের ক্ষেত্রে, আচরণের ক্ষেত্রে তা মানুষে সীমাবদ্ধ রাখি না- বিশেষ আলোকপাত করি নারী এবং পুরুষে। এবং চিরায়তভাবে এখানে কর্তৃত্ব করে আসছে পুরুষেরা, অনেকটা ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে আমরা নারীর ওপর প্রভুত্ব জাহির করে আসছি। খোলা চোখে দেখলে এখন মনে হবে, ‘আসলেই তো, এমনটাই হবার কথা…’ কিন্তু আসলে তা নয়; ভ্রম।

আরও পড়ুন# চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ঐতিহ্যবাহী আমের রাজধানী

আমাদের কাল্পনিক সব গল্পের নায়কের স্থানে খুব সূক্ষ্মভাবে পুরুষদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তাই ভ্রম হয়। আমরা মনে করতে থাকি, নারী জন্মগতভাবেই একটু কম যোগ্য। দৃশ্যের উলটো পিঠ দেখার চেষ্টা করুন, বাচ্চাকাল থেকে বাঘের বাচ্চাকে বিড়ালদলের সঙ্গে বড়ো করতে থাকলে পরিপূর্ণ বয়সে সে বাঘ বাঘের গর্জন দিতে ব্যর্থ হবে; বাস্তব। নারীর ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই করা হয়। নারীরা কম যোগ্য নন, বরং স্পষ্ট যে, তাদেরকে কম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অযোগ্য করে রাখা হয়। আপনার যদি বিশ্বাস আনা লাগে- তবে এই জায়গটাতে আনুন। অন্তত বিশ্বাস ভাঙার সূত্র ধরে হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর কম সুযোগ-সুবিধা / অংশগ্রহণ করতে না পারার বিষয়টা আলোচিত হবে। এবং তথাকথিত প্রথা ভাঙার রেওয়াজ হবে।

বহু যুগ ধরে মেয়েরা জীবনের যেসব ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যের স্বীকার হয়ে আসছে তন্মধ্যে ‘শিক্ষা’ অন্যতম। এক্ষেত্রে অনেকে হয়ত দ্বিমত করার চেষ্টা করবেন, আপনাদের মতামতকে আমি শ্রদ্ধা জানাই- তবে, নারীবান্ধব শিক্ষা কি আমরা তৈয়ার করতে পেরেছি? এমন তো নয় যে, মেয়ে শিশু জন্মের পরপর মায়ের স্তনদানের মতো শিক্ষাদানও তাৎক্ষণিক। না, এর বিস্তৃত একটা পথ আছে। আমরা ইচ্ছে করেই সেই পথটাকে কণ্টকাকীর্ণ করে রেখেছি। নারী যেন বারেবারে হোঁচট খেয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

এই জায়গায় সম্প্রতি একটা ঘটনার কথা মনে পড়েছে, উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার কৈখালী গ্রামের নারীরা পরিষ্কার পানি এবং মাসিক পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা না পাবার কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেয়ে মাসিকই বন্ধ রাখছেন! যার বৃহত্তর প্রভাব পড়ছে তাদের জীবনে। অল্প বয়সে জরায়ুর অসুখে ভুগে তাদের জরায়ু হারাতে হচ্ছে। অনেক নারী কোনো সন্তান জন্মদানের আগেই জরায়ু কেটে ফেলে দিচ্ছেন সার্টিফিকেটেবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে। এই নারীরা অল্প বয়সেই তীব্র ব্যথার কারণে প্রাত্যহিক কাজ পর্যন্ত করতে ব্যর্থ হোন। কী ভয়াবহ ব্যাপার!

যে প্রসঙ্গে ছিলাম, নারী শিক্ষা- নারীর শিক্ষা গ্রহণ করতে তাকে স্কুল কলেজে যেতে হবে। সে পথে বিছিয়ে রাখা হয়েছে নানান ধরনের ফাঁদ, যার ভেতর অন্যতম হলো যৌন সহিংসতা এবং নারীর পোশাক নিয়ে কটূ মন্তব্য। পোশাকের ব্যাপারে পুরুষের পাশাপাশি পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারী কিছু নারীও এগিয়ে আছে বিপুল ব্যবধানে।

কিছুদিন আগে নরসিংদী রেলস্টেশনে এরকম এক নারীর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। স্বস্তির বিষয় হচ্ছে নির্যাতনকারী ওই নারীকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে, আমাদের প্রতিবাদের মুখে। এমনকি আদালত যখন একটি নারীবিদ্বেষী মতামত দিয়ে ওই নির্যাতনকারীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে, প্রতিবাদের মুখে পড়ে সেই জামিনও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে…!

নারী কী পোশাক পরবে সেটাও যদি আমরা নির্ধারণ করে দেয়ার চেষ্টা করি তাহলে বাকিসব বিষয়ে দ্রুত অগ্রসর এই পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাব কীভাবে? এখন সময় সবকিছু সমানভাবে কাজে লাগানোর। বহুল জনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। এখন আমরা যদি নারীকে কম যোগ্য বলে থামিয়ে রাখার পায়তারা করি, তাহলে এই বিশাল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা আদৌ সম্ভব হবে?

এখন বাজারে আবার নতুন তত্ত্ব প্রচার হচ্ছে, নারীকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা যাবে না, করলে নারী ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য প্রতিরোধ গড়বে। এই ধুয়ো তুলে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এখনো বাল্যবিয়ে বন্ধ করা যায়নি। নারী শিক্ষা যা একটু অগ্রসর হয়েছিল এই মহামারি করোনার ছুঁতোয় তা পিছিয়ে পড়েছে বহুগুণ। যার মাশুল দিতে হবে দীর্ঘসময় ধরে। কথা হলো, মানুষ হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা আমি পাচ্ছি, লৈঙ্গিক পরিচয় টেনে এনে নারীকে সেখানে প্রতিহত করব কেন?

#আরও পড়ুন: মঙ্গলপুর: জন-মানবশূন্য এক গ্রামের গল্পকথা!

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের যে ১৭টি লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে তাতে লিঙ্গ সমতাকে ৫ম স্থান দেয়া হয়েছে। মানে, বিষয়টাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এখন প্রশ্ন আসতে পারে লিঙ্গ সমতা কী? অল্পকথায় বলতে গেলে, লিঙ্গ সমতা হলো নারী এবং পুরুষদের মাঝে ন্যায্য হবার প্রক্রিয়া। শিক্ষা, চাকরি, রাজনীতি, সেবা, যাপিত জীবন ইত্যাদির ক্ষেত্রে লৈঙ্গিক পরিচয় টেনে এনে বৈষম্য না করা। যেহেতু নারীকে একটু কম যোগ্য মনে করা হয়, চাকরির ক্ষেত্রে দেখা যায় একই পরিশ্রমে একজন পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় একজন নারী শ্রমিক কম মজুরি পায়।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড পুরুষ ক্রিকেট দলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারী ক্রিকেট দলের প্রতিটি বিভাগে বেতন-ভাতা বাড়িয়ে সমান সমান করেছে। তাদের সাধুবাদ জানাই। অপরদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট / ফুটবল বোর্ডে উভয় দলের বেতন-ভাতা সুবিধার বৈষম্য বড়ো দৃষ্টিকটূ লাগে। অথচ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অর্জিত একমাত্র মেজর ট্রফি হলো এশিয়া কাপ- যা জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের কল্যাণেই এসেছে। অনেকে ঠাট্টা করে মনে করতে চান যে, লিঙ্গ সমতা মানে নারীর পুরুষ হতে চাওয়া বা হয়ে ওঠা। আসলে তা নয়। নারী নারীই থাকবেন, পুরুষ পুরুষই থাকবেন। কাউকে কারোর মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না। আমরা কেবল ন্যায্য হিস্যাটা বুঝিয়ে দিতে সচেষ্ট থাকব।

আপনাকে স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে, অধিকার থেকে নারীকে বঞ্চিত করার মানে লিঙ্গ বৈষম্য এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রকে স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত করা। নেপোলিয়ন তো বলে গেছেন, ‘তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।’ এখানে নেপোলিয়ন একজন নারী চেয়েছেন, পুরুষ নয়। অর্থাৎ, বলা যায় একজন পুরুষকে শিক্ষিত করার মানে একজন মানুষকে শিক্ষিত করা আর একটি সমাজকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য নারীকে শিক্ষিত করে তোলা অপরিহার্য। একটি সমাজে বৃহত্তর অংশের মানুষ নারীর সাহচর্যে থাকে। নারীর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার অর্থ হলো মোটা দাগে লিঙ্গ বৈষম্যের যে গোড়া সেটা উপড়ে ফেলা এবং লিঙ্গ সমতার সোপানে এক পা এগিয়ে থাকা।

নারী ক্ষমতায়নের স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারিত হয় মেক্সিকোতে- ১৯৭৫ সালে। সেই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল; নর-নারীর অধিকার সংরক্ষণ নীতি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, লিঙ্গ সমতা অর্জনে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান পেছনের দিকে হলেও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ- নবম স্থান। কিন্তু বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নিগৃহের স্বীকার আবার নারীরাই। বাংলাদেশর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। এখানে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রধান দুজনই নারী, কিন্তু নারী নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কিংবা আস্থা রাখার প্রেক্ষিতে নয়। এ জায়গায় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে পরিবারতন্ত্র এবং তৎকালীন বিকল্পহীনতা। সে হিসেবে এখনও চলছে। দীর্ঘসময় ধরে দেশ নারী নেতৃত্বে চললেও পুরুষতান্ত্রিকতার হিংস্র ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক দল সক্রিয় আছে সেগুলোর দিকে চোখ রাখলেই অবস্থাটা অনুধাবন করা যাবে। তাদের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে নারী আছেন কজন? সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বাইরে নির্বাচনে নারী প্রার্থীকে তো বলতে গেলে নমিনেশনই দেওয়া হয় না আস্থাহীনতা অথবা নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়ার মানসিকতা নেই বলে। যেটুকু আছে সেটুকু বর্তমানে বিকল্পহীনতার কারণে। তাও মন্দের ভালো হিসেবে চলে আরকি।

তবে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করা যে ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে তা হলো সংবিধানমাফিক নারীর যথাযোগ্য বিচার না পাওয়া। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার যাবতীয় পাহাড় ডিঙিয়ে নারীর ন্যায্য হিস্যা বা বিচার পাওয়া দুরূহ হয়ে ওঠে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের কথা। নারী মুক্তি, ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, মুক্তমত, লিঙ্গ সমতার অগ্রজ এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর গত প্রায় তিরিশ বছর যাবত দেশে প্রবেশ করতে পারছেন না কেবল লেখালেখির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে। তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট পর্যন্ত নবায়ন করা হচ্ছে না। অথচ তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর সময় আরও কয়েকজন লেখক ওসব নিয়ে সোচ্চার ছিলেন, লেখালেখি করেছেন। তাঁদের কাউকে তাঁর মতো নির্মম নির্বাসন পেতে হয়নি। তসলিমা নাসরিন নারী বলেই তাঁকে এদেশে অচ্ছুত ঘোষণা করা হয়েছে, দেশে ফেরত আসার সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো লেখকের প্রতি তো এমন নির্দয় আচরণ দেখি না।

আমি বলছি না, ওই লেখকদেরও এমন অমানসিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে। দেশে ভয়ঙ্কর সব অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, নারী বলে- লেখালেখি করার জন্য তসলিমা নাসরিনকে কেন দীর্ঘ তিরিশ বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হবে? এসব বৈষম্য বন্ধ করার সময় এসেছে। তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে এনে সেই উদাহরণ তৈয়ার করা এখন সময়ের দাবি…!

এবং বিশেষত আরও একটি বিষয়ে আলোকপাত করা যায়- বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান ধর্মালম্বী মানুষ হলো মুসলমান। এখানে সাপ্তাহিক জুমার দিন এবং ইদের দিনগুলো সামাজিকভাবে মিলনমেলার মতো। কিন্তু দেশের মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ নারীদের নামাজ আদায়ের সুযোগ নেই, ইদগাহে যাবার নিয়ম নেই। এসব জায়গায় যেহেতু সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আসে, সবার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির এক ধরনের সুযোগ থাকে। সুস্থ মানসিক বিকাশে, আশেপাশের মানুষের সহচর্যেরও প্রয়োজন আছে। অথচ তা না করে নারীকে ঘরবন্ধী করে রাখার নিত্যনতুন ফতোয়া খোঁজা হয় ধর্মের পুরুষতান্ত্রিক উপনিবেশ থেকে।

#আরও পড়ুন: নকশি পাখা: সুতোয় গাঁথা স্বপ্ন যেন!

আপনি নারীদের চারপাশে সীমাবদ্ধতার দেয়াল টেনে দিয়ে বলবেন, নারীর দ্বারা সব কাজ হয় না- এ বড়ো অন্যায়। লৈঙ্গিক পরিচয় টেনে এনে সীমাবদ্ধতার যে দেয়াল গড়ে তুলেছেন, আপনাকে আগে সেটা ভেঙে দিতে হবে। এরপর দেখুন নারীরা পারে কিনা। এর আগে বোঝা যাবে না, তাদেরকে পুরুষতান্ত্রিকতার শেকল দিয়ে আটকে রাখা হয়; নারী মূলত অপ্রতিরোধ্য।

রাষ্ট্রের সকল নাগরিকই সমানাধিকার পাবেন। এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এখানে কোনো ধরনের যদি-কিন্তু-তবুওর স্থান নেই। একটি সভ্য দেশে লৈঙ্গিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, নমস্য করা হবে আর কাউকে অচ্ছুত ঘোষণা করা হবে, কম যোগ্য মনে করা হবে- তা সুন্দর দেখায় না; বেমানান। অগ্রসর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে, পারিবারিক সম্পত্তিতে নারীর যে প্রাপ্য অধিকার সেটা সুনিশ্চিত করা যাবে। নারী শিক্ষা বাস্তবায়নের পথ সুশৃঙ্খল হবে। সিঙ্গেল মাদারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈয়ার করা যাবে। সম্পর্কে ইতি টানা নারীদের কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকরিতে নারীরা নিজ যোগ্যতায় আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ্য হাতিয়ার হয়ে উঠবেন। অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাঁরাও একেক জন সফলতার চূড়ান্ত শিখরে উঠবেন। সর্বোপরি, নারী একটু কম যোগ্য টাইপ ভ্রান্ত মনোভাব ধ্বংস হবে এবং নারীরা ফিরে পাবে তাঁদের হারানো আত্মবিশ্বাস। এই আত্মবিশ্বাস স্থাপিত হলে দেশে দেশে লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের পথ মসৃণ হবে…!
_____________

লৈঙ্গিক পরিচয়ে নারীর পায়ে শেকল দেওয়া— রুখতে হবে!

লিখেছেন:

আরাফাত লিও তন্ময়
বাংলাদেশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Adblock Detected

Dear Viewer, Please Turn Off Your Ad Blocker To Continue Visiting Our Site & Enjoy Our Contents.