কোন ০৭ টি প্রচলিত মিথ বাসা বাঁধছে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে!

প্রচলিত মিথ নিয়ে মোবাইল বলুন অথবা কম্পিউটারের কথাই বলুন না কেন। ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে নানান বিষয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধ্যান ধারণা, কারো কারো মধ্যে রয়েছে অতি কাল্পনিক বিশ্বাস। এসব কিছু আসলে এক একটা মিথ বা ভুল ধারণা।

০৭ টি বহুল প্রচলিত মিথ

গ্রামগঞ্জ থেকে শহরব্যাপী কম্পিউটার বা মুঠোফোনের প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে এমন সব অভাবনীয় মিথ, যা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। অহরহ শুনতে পাওয়া এসব মিথ নিয়েই অনুলিপির আজকের আয়োজন মোবাইল কিংবা কম্পিউটার নিয়ে ০৭ টি প্রচলিত মিথ

এই মিথ বা প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকা কি কি প্রকৃত সত্য রয়েছে— তা সম্পর্কে জানাচ্ছেন আমাদের প্রযুক্তি বন্ধু সাদাফ আমিন

কম্পিউটারে Refresh বাটন গতি বাড়ায়

প্রচলিত: কম্পিউটার ব্যবহার করা আমরা বেশিরভাগ মানুষজন মনে করি রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করলে মনে হয় গতি বাড়ে এবং সবকিছু আগের থেকে আরো দ্রুত কাজ করে। যত বেশিবার রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করব, কম্পিউটার তত বেশি ভাল করবে।

সত্য: মূলত রিফ্রেশ বাটনের কাজ হলো সদ্য সম্পাদিত কোন প্রোগাম, যা কোন ত্রুটির কারণে ব্যবহারকারী এখনো দেখতে পান নি, তা দেখানো। তাই এটি গতি বাড়ানো থেকে পুরোই আলাদা।

আমরা যখন রিফ্রেশে বাটনে ক্লিক করি তখন এটি প্রোগ্রামে সংগঠিত ঘটনাকে দৃশ্যমান করে। ধরা যাক আপনি আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ড্রাইভে একটি নতুন ফোল্ডার তৈরি করেছেন। কিন্তু কোন কারণে সেটির নাম দেখতে পাচ্ছেন না। তখন রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করলে নামসহ ফোল্ডারটি দেখতে পাবেন।

আরও পড়ুন: কর্পোরেট ইন্টার্ভিউ বোর্ডের সম্ভাব্য কিছু প্রশ্ন!

মূলকথা: কম্পিউটারের গতি বাড়ানো কিংবা আরো ভাল কাজ করার সঙ্গে রিফ্রেশ বাটনের কোনো সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই।

চার্জ করার সময় কখনোই মুঠোফোনে কথা বলবেন না- প্রচলিত মিথ

প্রচলিত: আমরা অনেকেই মনে করি মুঠোফোন চার্জে লাগিয়ে কখনোই ফোনকলে কারো সাথে কোন কথা বলা যাবে না। কারণ চার্জে লাগানো অবস্থায় কথা বললে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে এবং আপনি গুরুতর আহত হতে পারেন, এমনকি আপনার তৎক্ষনাৎ মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে।

সত্য: এই মিথ বা ভুল ধারণা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে থাকেন অধিকাংশ অ্যানড্রয়েড মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু আসলেই কি তাই?

এটা মূলত সবচে বেশি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা। সাধারণত চার্জে লাগানো অবস্থায় একটি মোবাইল বা স্মার্টফোনের বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নগন্য। এটা তখনই ঘটতে পারে, যখন কেউ ত্রুটিযুক্ত চার্জার দিয়ে তার ফোন চার্জ করে কিংবা স্মার্টফোনটি তৈরির সময় কোন ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে যায়।

আমরা দেখেছি স্যামসাং নোট ৭-এর কিছু মোবাইল সেটে এমন যান্ত্রিক কিছু সমস্যা ছিল। যেকারণে এগুলো বিস্ফারিত হয়েছিল এবং গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। আদৌতে চার্জ করার সময় কথা বলা বা ফোন ব্যবহার করার সঙ্গে মোবাইল বিস্ফোরণের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে ফোন চার্জ করার সময় যদি খেয়াল করেন আপনার ফোনটি মাত্রারিক্ত গরম হচ্ছে, তবে বুঝবেন আপনার ফোনের চার্জার বা ফোনের ব্যাটারিতে কোন সমস্যা হয়েছে। কোনধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক কোন অভিজ্ঞ মেকানিকের সাথে যোগাযোগ করুন।

আরও পড়ুন: ফ্রেশাররা কীভাবে চাকরির দরখাস্ত লিখবেন?

মূলকথা: কেবল ত্রুটিযুক্ত চার্জার বা যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে ফোন বিস্ফোরিত হতে পারে। অন্যথায় বিস্ফারিত হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ফোনের সঙ্গে নির্মাতার চার্জারই শুধু ব্যবহার করা যাবে

যে চার্জারে নিম্নমানের সার্কিট বা তার ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি ফোনের জন্য ক্ষতিকর।

প্রচলিত: অনেকেই মনে করি ফোনের সঙ্গে নির্মাতা কোম্পানি যে চার্জার দিয়েছেন শুধু সেটাই ব্যবহার করা যাবে। ভিন্ন কোন কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করা যাবে না। অথবা ফোন নির্মাতা কোম্পানি অনুমোদন দেয় বা সাজেস্ট করে কেবল এমন সব অন্য নির্মাতার (থার্ড পার্টি) তৈরি করা চার্জার ব্যবহার করা যাবে। তা না হলে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হবে কিংবা ফোন যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হবে।

সত্য: ফোন নির্মাতা কোম্পানির দেওয়া চার্জার ব্যবহার করাটাই সবচে নিরাপদ ও ভাল। কিন্তু এর মানে এই নয় যে কখনো অন্য কোনো কোম্পানি নির্মাতার চার্জার ব্যবহার করা যাবে না। আবার কম দামী কিংবা বেশি দামের চার্জারও আসল বিষয় নয়। মূলত যেসব চার্জারে নিম্নমানের সার্কিট বা তার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সে চার্জারগুলোই ফোনের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিম্নমানের তার বা সার্কিট থাকা চার্জার এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম।

ফোনের অ্যাপ একেবারে বন্ধ করে দিলে ফোনের গতি বাড়বে

প্রচলিত: আপনি যখন আপনার ফোনে চালু থাকা কোনো অ্যাপ বন্ধ করেন, তখনো সেটা ফোনের ভেতরে-ভেতরে অটোমেটিক চলতে থাকে। এ জন্য আপনাকে অ্যাপটিকে একেবারে বন্ধ রাখতে কোন টাস্ক কিলার ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। টাস্ক কিলার ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অ্যাপ বন্ধ করে দিবে, সেকারণে আপনার অতিরিক্ত ইন্টারনেট খরচ হবে না, ফোনের শক্তিও ব্যয় হবে না। যারফলে ফোনের গতি বেড়ে যাবে।

সত্য: এ কথা সত্যি যে অনেক অ্যাপ রয়েছে যা ব্যাকগ্রাউন্ডে অটোমেটিক চলতে থাকে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইমু, টুইটার, ক্রোম ব্রাউজার, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার এর মতো অ্যাপগুলো চালু না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশ সক্রিয় থাকে।

আপনাকে এসব অ্যাপস সর্বশেষ বার্তা কিংবা বিশেষ নোটিফিকেশন দেওয়ার জন্যই ভিতরে ভিতরে চলতে থাকে। যদি আপনি জোর করে এ রকম অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা থামিয়ে দেন, তখন সেটা থেমে যায়। কিন্তু কিছু সেকেন্ড পরে এগুলো আবার অটোমেটিক চালু হয়। জোর করে কোন লাভ হয় না।

যদি আপনি এসব অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজ বন্ধ করতে চান, তবে আপনার ফোনে থাকা ব্যাটারি সেভার মোড ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যাটারি সেভার মোড যেকোনো অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখে।

মোবাইল সিমে ফুল সিগন্যাল মানে সেরা নেটওয়ার্ক সেবা

প্রচলিত: যদি কখনো দেখেন আপনার ফোনে মোবাইল সিগন্যালের পুরোটা ভরাট দেখাচ্ছে, তার মানে আপনি সবচেয়ে ভাল নেটওয়ার্ক সেবা পাচ্ছেন এবং মোবাইল ডেটা আদানপ্রদানে সর্বোচ্চ গতি পাচ্ছেন— এমনটাই ধারণা অনেকের।

আরও পড়ুন: ভুলে কারও বিকাশে টাকা চলে গেলে কী করবেন?

সত্য: অনেক সময়ই আমরা ফোনে পুরো সিগন্যাল ভরাট দেখে থাকি, কিন্তু তখনো হয়তো মোবাইল ডাটায় চলা ইন্টারনেটের গতি বেশ ধীরই থাকে। আসলে এই পুরো ভরাট সিগন্যাল সেরা নেটওয়ার্ক সেবা নিশ্চিত করতে পারে না। মোবাইলে দেখানো এই সিগন্যালের মানে হচ্ছে আপনি কাছের মোবাইল ফোন টাওয়ার থেকে কতটুকো শক্তি পাচ্ছেন। এখন ওই টাওয়ারে যতটুকু নেটওয়ার্ক শক্তি থাকবে তার উপর নির্ভর করে হ্রাসবৃদ্ধি ঘটবে আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার।

যত বেশি র‌্যাম, তত বেশি কম্পিউটারের কাজের গতি

প্রচলিত: আমাদের অনেকেই ভাবি বেশি ক্ষমতার র‌্যাম কম্পিউটারের কাজের গতি বাড়াতে সাহায্য করে। যেকারণে যত বেশি র‌্যাম হবে, কম্পিউটারের কাজের গতি তত বেশি পাওয়া যাবে।

সত্য: র‌্যাম মূলত অস্থায়ী তথ্য ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেকারণে কম্পিউটারে কাজ করার সময় তৈরি হওয়া অস্থায়ী তথ্যগুলো সংরক্ষণের জন্য বা জমা করে রাখার জন্য র‌্যামের প্রয়োজন হয়।

র‌্যাম যত বেশি হবে চলমান প্রোগ্রামের অস্থায়ী তথ্য ধারণক্ষমতা তত বেশি হবে। র‌্যাম যত বেশি থাকবে, আপনি একসঙ্গে তত বেশি প্রোগ্রাম খোলা রাখার সুযোগ পাবেন। এছাড়া র‌্যামের অন্য কোন উপকারী দিক নেই।

ধরুন, আপনার কম্পিউটারে ৪ গিগাবাইট র‌্যাম রয়েছে, কিন্তু যেসব প্রোগ্রাম খুলে কাজ করছেন, সেগুলো ৫ গিগাবাইটের বেশি জায়গা দখল করে নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার অনেকটাই ধীরগতির হয়ে পড়বে।

সত্যি যদি কেউ কম্পিউটারের গতি বাড়াতে চায়, তবে তাকে র‌্যামের পরিমাণ নয়, ধরনের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন ডিডিআর-৩ অথবা ডিডিআর-৪।

দ্রুতগতির র‌্যাম কম্পিউটারের কাজ করার গতি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই পরিমান নয় ধরণ দেখে র‌্যাম নির্বাচন করুন।

Safely Remove ক্লিক করে তারপর USB খুলতে হবে – প্রচলিত মিথ

প্রচলিত: যেকোনো USB যন্ত্রাংশ কম্পিউটার থেকে খোলার পূর্বে অবশ্যই আমাদেরকে ‘Safely Remove USB’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। না হলে ইউএসবিতে থাকা আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ডেটা, ছবি, ফাইল নষ্ট হয়ে যেতে পারে কিংবা সম্পাদনা করা তথ্যগুলো সেভ না–ও হয়ে থাকতে পারে।

সত্য: যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি USB ড্রাইভে কোনো কিছু লিখছেন বা ড্রাইভ থেকে কিছু পড়ছেন, দেখছেন ততক্ষণ ড্রাইভ খুলে ফেলায় কোনো সমস্যা নেই।

যখন আপনি ‘সেফলি রিমুভ ইউএসবি’তে ক্লিক করবেন তখন সেটিতে কোনো সক্রিয় ডেটা থাকে না— এমন কি অপারেটিং সিস্টেম এটিই শুধু নিশ্চিত করে। এর বাইরে কোন কিছু ঘটে না।

আর আপনি যেসব ডেটায় পরিবর্তন এনেছেন, তা ইতোমধ্যে সেভ করা আছে। তাই কাজ হয়ে গেলে ৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করে ইউএসবি খুলে নিলে ফাইল বা ডেটা কিংবা ইউএসবির কোন সমস্যা হবে না।

মূলকথা: মূলত USB এর কাজ শেষ হয়ে গেলে ৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করে ইউএসবি খুলে নেওয়া যায়। এতে কোনরকম সমস্যা হয় না।

তথ্যসূত্র: হংকিয়াত ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Adblock Detected

Dear Viewer, Please Turn Off Your Ad Blocker To Continue Visiting Our Site & Enjoy Our Contents.